অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন মাত্রা যোগ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরে (ডিএফএটি) বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দুইটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। এতে উভয় দেশের মধ্যে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, বাণিজ্য সুবিধা ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। ডিএফএটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মি. রবি কেওয়ালরাম এবং সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ডিভিশনের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিসেস সারা স্টোরির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেয় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগদান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় শিল্প ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ আরসিইপি-তে যোগদানের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ১৭০ মিলিয়ন মানুষের বিশাল বাজার নিয়ে এই যোগদান দক্ষিণ এশিয়াকে পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ানের সঙ্গে সংযুক্ত করার সেতুবন্ধ তৈরি করবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আরসিইপি অ্যাকসেশন প্রশ্নমালা জমা দিয়েছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনকে আরসিইপি-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আরসিইপি-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বাংলাদেশ।

বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রস্তাব করা হলে তারা এ বিষয়ে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ করবে বলে জানায়। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে। বিশেষ করে, অস্ট্রেলিয়ার উৎকৃষ্ট মানের পশম ও তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে উচ্চ-মূল্যের পণ্য উৎপাদন করতে পারে বলে মতপ্রকাশ করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম প্রাকৃতিক তন্তুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।