কলম্বিয়ায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ল-ভ- হয়ে গেছে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকেপড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলিয়ার্ডো দে লা এস্প্রিয়েলা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪৯৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া। গত বুধবার দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিহতদের সম্মানে সরকারি ভবন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কলম্বিয়ার দূতাবাসগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

ভূমিকম্পের পর থেকে বুধবার ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হয়ে যায়। এই সময়কালে ধসেপড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ছিল বলে মনে করা হয়। এই সময়সীমাটি পার হয়ে যাওয়ার পর কর্মকর্তারা এখন তল্লাশি অভিযানকে ‘চূড়ান্ত পর্যায়’ বলছেন সেটিতে প্রবেশ করেছে। তবে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পেরেইরা শহরে ১০ ঘণ্টার এক দীর্ঘ ও জটিল উদ্ধার অভিযান শেষে ড্যানিয়েলা লার্গো নামের ওই নারীকে ধসেপড়া ভবনের নিচ থেকে বের করে আনা হয়। চারটি কংক্রিটের সø্যাবের নিচে চাপা পড়ে থাকা লার্গোকে উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিচে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করেছিলেন।

উদ্ধার পাওয়া লার্গোর মা জানান, স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তার মেয়ের সাহায্যের আকুতি শুনতে পেয়েছিলেন। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি ছোট ক্যামেরার সহায়তায় লার্গোর অবস্থান শনাক্ত করেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি রাজধানী বগোটা থেকে আসা দল এবং জাতীয় পুলিশের বিপর্যয় সাড়াদানকারী দল যৌথভাবে দুটি সুড়ঙ্গ খনন করে। ওপর থেকে খোঁড়া প্রথম সুড়ঙ্গ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় এবং নিচ থেকে খোঁড়া দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ দিয়ে তাকে মুক্ত করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্ধার অভিযানকে ‘আশার বার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট এস্প্রিয়েলা।

ক্যাপিটাল সিটিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল পেরেইরা শহরে ৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৯৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে ক্যালি শহরে। পেরেইরাতে অন্তত ৯২টি ভবন ধসে পড়েছে, যেখানে ১৫ জন আটকে আছেন এবং ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তৃতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর ক্যালিতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আটকে ছিলেন। সেখানে এখন পর্যন্ত ৮৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যালি শহরের মেয়র রাতে সান্ধ্যআইন জারি করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনী টহল দেবে বলে জানিয়েছেন। নিরাপদ উদ্ধারকাজ নিশ্চিত ও আরও জীবিতদের খুঁজে বের করার আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। এটি বিশাল এলাকাজুড়ে অনুভূত হয় এবং কেন্দ্রস্থলের কাছে ভূকম্পন ৯০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।