ডারউইনে দ্বিতীয় দিনেও দাপুটে শুরু বাংলাদেশের

আগের দিনের বোলিং ব্যাটিং এর দারুণ দলীয় পারফর্ম প্রদর্শনের পর দ্বিতীয় দিনের শুরুটাও দারুণ পেয়েছে বাংলাদেশ। পুরো সেশনে কেবল মুমিনুল হকের একটিমাত্র হারিয়েছে সফরকারীরা। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগেই একদম লিডের দুয়ারে পৌঁছে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৫১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৮১ রান। এতে ১৭ রানে পিছিয়ে আছে তারা। পিচে পুরোপুরি থিতু হওয়া তানজিদ ব্যাট করছেন ৭৪ রানে আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত আছেন ২৮ রানে। আর মুমিনুল ফিরেছেন ৯৫ বলে ৪৯ রান করে।

তানজিদ-মুমিনুলের জুটি থামে শতরান পেরিয়ে

১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের শুরুটাও দারুণ পায় বাংলাদেশ। পিচে থিতু হয়ে বেশ বুঝেশুনে এগোচ্ছিলেন তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক। তাদের জুটি পেরিয়ে যায় শতরানে। তবে সেখান থেকে আর বাড়তে দেয়নি অজিরা। ৪০তম ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন মুমিনুল। ফেরেন ফিফটি থেকে এক রান দূরে থেকে। দলীয় সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ১৩৮ রান।

তানজিদের প্রথম পঞ্চাশ ও দ্বিতীয় সুযোগ

মুমিনুল ফেরার  তিন ওভার বাদে আরও একটি বিপত্তিতে পড়তে পারতো বাংলাদেশ। ৪৩তম ওভারের নাথান লায়নের টার্ন ঠিকঠাক পড়তে পারেননি তানজিদ। সেখানে স্লিপে দিয়ে বসেন ক্যাচ, তবে তালুবন্দী করতে পারেননি স্টিভ স্মিথ। তখন তানজিদ ব্যাট করছিলেন ৬২ রান। ইনিংসে এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো উইকেটে টিকে থাকার সুযোগ। এর আগে শূন্য রানে ব্যাট করার সময় তার ক্যাচ ফেলেছিলেন লায়ন।

সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত আরও কোনো উইকেট না হারিয়ে দিনের প্রথম সেশনে অজিদের চাপে রেখে নিজেদের দাপট ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। দিনের এই সেশনে ২৭ ওভারে ৮৫ রান তুলেছে সফরকারীরা ১ উইকেট হারিয়ে।

ব্যাটে-বলে প্রথম দিনটাও ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের

মারারা স্টেডিয়ামে গতকাল টেস্টের প্রথম দিনে স্বাগতিকদের ইনিংসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল হাতে রাজত্ব করেছেন হাসান মাহমুদ। অজিদের পেস তোপে ডুবিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রথমবার এক ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার (১৭-৩-৫৫-৬)। প্রীতি ম্যাচে দারুণ ফর্মের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর বাংলাদেশের টেস্ট প্রত্যাবর্তনের শুরুটা দারুণভাবে রাঙান তিনি। নাহিদ রানার অনুপস্থিতির হতাশা একাই দূর করে সব আলো কেড়ে নেন হাসান।

টসে জিতে ভালো শুরুর চেষ্টা করলেও ১২তম ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে (২৩) এবং পরের ওভারে ট্রাভিস হেডকে (২২) ফিরিয়ে জোড়া ধাক্কা দেন হাসান। এরপর এবাদত হোসেন মারনাস লাবুশেনকে (১) এবং তাসকিন আহমেদ ক্যামেরন গ্রিনকে (১৩) শিকার করলে ৭৪ রানেই ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি (১৩) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও এবাদত সেই জুটি ভাঙেন।

সেখানে অজিদের অর্ধেকের বেশি দল যেখন পাড়ি জমান ড্রেসিংরুমে তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান স্মিথ, যিনি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। স্কোরবোর্ডে ১৭২ রান ওঠার পর শেষ ২৬ রান যোগ করতেই অজিদের বাকি চার ব্যাটারকে একে একে সাজঘরে পাঠান হাসান। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। হাসানের ৬ উইকেট ছাড়া এবাদত ও তাসকিন ২টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশও। দুই ওপেনার সাদমান ও তানজিদ ঠান্ডা মেজাজে রান তুলতে থাকেন। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় সাদমান (২০) স্টার্কের শিকার হয়ে ফিরলেও, দিনের বাকি সময়ে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি তানজিদ ও মুমিনুল। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করে সফরকারীরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে):

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২, কেরি ১৯, গ্রিন ১৩, ওয়েবস্টার ১২; হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস*: ১৮১/২ (৫১ ওভার) (মুমিনুল ৪৯, তানজিদ ৭৪*, শান্ত ২৮*; স্টার্ক ১/৩৭)।