ময়মনসিংহে যুবক হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাব ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কম্পিউটারের দোকানে ঢুকে মো. রাব্বী (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি আব্দুল খালেককে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

র‍্যাব জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানার রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১৪-এর সিপিএসসি’র একটি আভিযানিক দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল খালেক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিকতদন্তে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকানে ঢুকে রাব্বীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে রাব্বী দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় রাব্বীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা তার ভাই রিয়াদকেও কুপিয়ে আহত করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহত রাব্বী মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করতেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ একটি স্থানের সামনে প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত রাব্বীর প্রতিবেশী সাব্বিরের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে এসেছে। তবে র‍্যাবের প্রাথমিকতদন্তেও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
র‌্যাব ১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার সামসুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।