ছাত্র রাজনীতিতে অপূর্ণতার আক্ষেপ চবি ছাত্রদল সেক্রেটারির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে যেকোন মুহূর্তে ঘোষণা আসতে পারে। তবে এরই মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে, পূর্বের ন্যায় এবারও ঢাবির শিক্ষার্থীদের বাইরে যাচ্ছে না ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ‘সুপার ফাইভ।’ এবিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন চবি ছাত্রদলের বর্তমান সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান।  

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি। 

‘ছাত্র রাজনীতি করার অপূর্ণ স্বপ্নের এক গভীর আক্ষেপ’ শিরোনামে স্ট্যাটাসে তিনি তার সংগ্রামী ছাত্ররাজনীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতাম বৃহৎ পরিসরে ছাত্র রাজনীতির আরেক স্বপ্নের যাত্রা হয়ত শুরু করতে পারতাম।’

জুলাই আন্দোলনে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে লেখেন, ‘জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশ নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের আন্দোলনের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায় এবং শহীদ ওয়াসিম জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ছাত্রদলের গর্বের বিষয়। আন্দোলনের সময়ে নিজের পা হারানোর ঝুঁকি নিয়েও ক্র্যাচে ভর দিয়ে নিজ পায়ে হেঁটে আন্দোলনকে চলমান ও বেগবান রাখার সহ-যোদ্ধাদের নিয়ে চেষ্টা করেছি। দিন কিংবা রাতের পর রাত রাজপথে কেটেছে। শরীরের ওপর দিয়ে  অসহনীয় নির্যাতন, কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। একজন কর্মী হিসেবে সেই সময়গুলো আমার জন্য যেমন কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল, তেমনি ছিল দায়িত্ব পালনের এক গভীর উপলব্ধি।’

ঢাবির শিক্ষার্থী না হওয়ায় আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ যদি ঢাবির শিক্ষার্থী হতাম রাজনীতি আরেকভাবে করার সুযোগ পেতাম। এটা স্বপ্ন ছিল। মাঝে মাঝে মনে হয়, আজ যদি আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতাম এবং ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতাম, তাহলে হয়তো আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও ছাত্রসমাজের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেতাম। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই আক্ষেপ অবশ্যই আছে।’

আক্ষেপ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে ছাত্ররাজনীতি করার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ হয়তো জীবনের কোথাও থেকে যাবে। তবে সেই আক্ষেপের চেয়েও বড় আমার দায়িত্ববোধ। কারণ রাজনীতিতে পদ-পদবি নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ত্যাগ স্বীকার করা এবং কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করাই একজন কর্মীর প্রকৃত পরিচয়।’

সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘ক্র্যাচে ভর দিয়ে নিজের পা হারানোর ঝুঁকি নিয়েও রাজপথে থাকার চেষ্টা করেছি। রাতের পর রাত আন্দোলনের মাঠে কেটেছে। শরীরের ওপর দিয়ে অনেক কিছু গেছে, কিন্তু মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাইনি। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও রাজপথের কর্মী হিসেবে নিজের ভূমিকা নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’

তিনি আরও লিখেন, ‘শহীদ ওয়াসিমের আত্মত্যাগ, জুলাইয়ের সংগ্রাম এবং রাজপথে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ যেন শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে—সেই প্রত্যয়েই এগিয়ে যেতে চাই। আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষের অধিকার থাকবে, শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে, ক্যাম্পাস হবে শিক্ষাবান্ধব, ভিন্নমতের প্রতি থাকবে সম্মান এবং রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য। আমাদের স্বপ্ন হওয়া উচিত সুন্দর বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, মানবিক ও দায়িত্বশীল বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে আজীবন নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’