নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি সেচমোটর, মোটর খোলার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও একটি চায়নিজ কুড়ালসহ তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাছিকাটা টোলপ্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন গুরুদাসপুর উপজেলার পাটপাড়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রানা আহমেদ, বিন্যাবাড়ী বাজার এলাকার জরিপ উদ্দিনের ছেলে জসিম এবং নারিনাড়ী ভাঙা মসজিদ এলাকার মজিদ আলীর ছেলে মিজান আলী।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাছিকাটা টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশের একটি দল। সিরাজগঞ্জের দিক থেকে একটি পিকআপে করে গুরুদাসপুরে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। পরে পিকআপটি তল্লাশি করে একটি সেচমোটর, মোটর খোলা ও বহনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে তিনজন আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পাটপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রানা আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মাঠের সেচযন্ত্র, গবাদিপশু ও পুকুরের মাছ চুরির ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে সেসব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে গুরুদাসপুরের বিভিন্ন এলাকায় সেচমোটর ও কৃষি যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে। রাতের আঁধারে মাঠ থেকে সেচমোটর ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষিকাজের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে একটি মোটর চুরি হলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন যন্ত্র কিনতে বাড়তি অর্থও গুনতে হয় তাঁদের।
এ কারণে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সাম্প্রতিক মোটর চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
তবে পুলিশ এখনো আটক তিনজনকে সাম্প্রতিক সব চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে নিশ্চিত করেনি।
গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম রিয়াজুর হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি সেচমোটর, মোটর-সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মাঠের ফসল বাঁচাতে যে সেচমোটর কৃষকের অন্যতম ভরসা, সেই যন্ত্রই যখন চোরের লক্ষ্যবস্তু হয়, তখন ক্ষতি শুধু একটি পরিবারের নয়—ব্যাহত হয় পুরো কৃষি উৎপাদন। তাই সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা এখন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের।