উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুটের ঘটনায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র ও গুলিসহ ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। লুটে ব্যবহৃত চারটি অস্ত্র, ২১ রাউন্ড গুলি এবং নগদ ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আসামিরা র‌্যাবের পোশাক (ভেস্ট), আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেন। ওই পেট্রোল পাম্পটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ মো. ইলিয়াস শিকদার, জাফর, মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল, মিন্টু রাড়ী ও সাগর বাড়ৈ।

গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার ডিএল ফিলিং স্টেশনের চারজন এক কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা বিমানবন্দর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার কাছে বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে তাদের কাছ থেকে সব টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইলিয়াস শিকদারের বন্দর থানা এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব লেখা তিনটি ভেস্ট ও ২টি ক্যাপ, ২টি নম্বর প্লেট, র‌্যাবের মনোগ্রামযুক্ত চারটি ভুয়া পরিচয়পত্র, তিনটি ওয়াকিটকি সেট, চার জোড়া হাতকড়া, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মিন্টু রাড়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব লেখা চারটি ভেস্ট, স্টিলের দুটি ও অফসেট পেপারের ৪টি নম্বর প্লেট, র‌্যাবের মনোগ্রামযুক্ত চারটি ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি সেট ও চার্জার, তিন জোড়া হাতকড়া, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যে শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর বাড়ৈকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতির লুণ্ঠিত নগদ ৯ লাখ টাকা। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারদের ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈ তার ভাগে ৯ লাখ টাকা পেয়েছিলেন, তবে সেই টাকা সে ব্যয় করতে পারেননি। ডাকাতির টাকা বিভিন্নজনের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে। এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীরা বড় অংশ নেন এবং বাকিটা অন্যদের ভাগ করে দেওয়া হয়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, মূল অর্গানাইজার বা মাস্টারমাইন্ড এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করা হলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি পেশাদার ক্রিমিনাল হিসেবে এটি করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংক ছুটির কারণে পেট্রোল পাম্পের টাকা কয়েক দিন জমা রাখা হয়েছিল। বন্ধের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা জমার বিষয়টি জেনেই তারা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

আসামিদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড আছে কি না; উত্তরে ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেপ্তার সবাই পেশাদার অপরাধী এবং একাধিক মামলার আসামি। সাগর বাড়ৈর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। পলাতক মূলহোতার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা থাকতে পারে। পুলিশ মনে করছে এই গ্যাংটিকে পুরো ডিসম্যান্টল (ছত্রভঙ্গ) করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।