ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো জাতীয় মৎস্যপক্ষের উদ্বোধন করতে আজ কিশোরগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে জেলার তিন উপজেলাÑ কিশোরগঞ্জ সদর, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় রয়েছে নানা কর্মসূচি। তিনি সড়কপথে জেলা সদরসহ তিন উপজেলা সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী এ সফরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্যপক্ষ উদ্বোধন, পুরস্কার বিতরণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনুদান ও সম্মানী প্রদানসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফর কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে কিশোরগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। জেলা শহর, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে সার্কিট হাউজ। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ও বক্তব্য শুনতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা পূরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি : প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেনের সই করা সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আজ সড়কপথে কিশোরগঞ্জে আসবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। একই স্থানে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। দুপুর ১টার দিকে কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বেলা আড়াইটায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টায় জেলা শহরের পুরনো স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ সফরকালে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্যপক্ষের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা সারা দেশের ১৪ উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের কার্যক্রমের পাশাপাশি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পাইলট কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত জাতীয় মৎস্যপক্ষের আয়োজন এবারই প্রথম রাজধানীর বাইরে এ আয়োজন হচ্ছে।