সাফের আগে প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কায় কোচ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে নিজেদের প্রস্তুত করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগকে দারুণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। তবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে ঘরোয়া লিগের সূচি ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন এই কোচ। শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে এসেছিলেন। সেখানেই জাতীয় দলের প্রস্তুতি এবং সাফ নিয়ে নিজের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন টমাস ডুলি।

আগামী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তিনটি ফিফা ফ্রেন্ডলি উইন্ডো রয়েছে। এর মধ্যে কিরগিজস্তানে খেলার একটি সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার আলোচনাও চলছে। তবে এখনো কোনো কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। তাই প্রতিপক্ষ নিশ্চিত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি পরিকল্পনাও করতে পারছে না বাংলাদেশ। কোচ ডুলি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আসিয়ান কাপে খেলতে চাই। তারাও চায় আমরা অংশ নিই, যা ইতিবাচক বিষয়। তবে সেখানে খেলা এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়। কাগজে-কলমে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এটিকে নিশ্চিত বলতে পারছি না।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। তার মতে, শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশগুলোর বিপক্ষে খেললে বাংলাদেশের ভুলগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কোচ বলেন, ‘ওরা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। তাদের মতো দলের বিপক্ষে খেললে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শনাক্ত করতে পারব এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারব। এই ম্যাচগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’

সাফের প্রস্তুতি হিসেবে আসিয়ান কাপকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘এটি চমৎকার প্রস্তুতি হবে। তবে আরও ভালো প্রস্তুতি হতো যদি আমরা ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলতে পারতাম।’ তার মতে, ঘরের মাঠে জয় পেলে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, যা সাফের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাফের শিরোপা জিততে পারেনি। এবার সেই সুযোগ আসতে পারে। তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না টমাস ডুলি। তিনি বলেন, ‘আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ আন্ডারডগ হিসেবেই নামবে। তবে সেই অবস্থানের সুবিধাও আছে। প্রতিপক্ষকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে, আর বাংলাদেশ মাঠে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবে।’

তবে আসিয়ান কাপ না হলে কিরগিজস্তানে তিনজাতির টুর্নামেন্টকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে লেবানন বা কিরগিজস্তানের মতো দলের বিপক্ষে পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া খেললে ফল উল্টো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কোচ। তার মতে, বড় ব্যবধানে হারলে দলের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা অবশ্য ঘরোয়া লিগ। ফিফা উইন্ডো শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। অথচ এখনো লিগ কবে শুরু হবে এবং কখন জাতীয় দলের জন্য তা স্থগিত করা হবে, সেটি নিশ্চিত নয়। কোচের মতে, একটি পেশাদার ক্লাবে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি ফিট হতে প্রাক-মৌসুমেই প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর ম্যাচ খেলে ছন্দে ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ফিফা উইন্ডো শুরুর আগে আমরা যদি খেলোয়াড়দের মাত্র তিন-চারটি অনুশীলন সেশন পাই, তাহলে তা খুব কঠিন হবে। আমি চাইতাম তারা এরই মধ্যে আট-দশ সপ্তাহ অনুশীলন করে ছয়-সাতটি ম্যাচ খেলত।’

লিগ কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে অন্তত সাত দিনের বেশি সময় খেলোয়াড়দের পাওয়ার আশা করছেন কোচ। কোচের মতে, স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে টানা চার সপ্তাহ কাজ করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হতো। বাস্তবতা মেনে এখন তাই দ্রুত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। সাফের আগে কোন পথে যাবে দলÑ আসিয়ান কাপ, কিরগিজস্তান সফর, নাকি ঘরের মাঠে নিজস্ব টুর্নামেন্ট, সেই সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।