বাংলাদেশকে সাহস দিচ্ছে মাউন্ট মঙ্গানুই

প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ সতর্ক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ট্রাভিস হেড। তবে এবারও একই পরিণতি হলো তার। এই ডানহাতি পেসারের করা একটি বলে কাট শট খেলতে গিয়ে বিপদে পড়েন। বলটি ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। মাঠ ছাড়ার আগে হেড নিজেই বেল তুলে সযতেœ স্টাম্পের মাথায় আবার বসিয়ে দেন। ধারাভাষ্যকক্ষে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য! আমার পুরো ক্রিকেট জীবনে এমনটা কখনো দেখিনি। একজন ব্যাটার এতটাই হতাশ যে, বেলগুলো আবার বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

অজি ওপেনার যখন আউট হন, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। ইনিংস ব্যবধানে জেতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তবে এর পরে দুটি কার্যকর জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে স্বাগতিকরা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখান থেকে যেকোনো দিকে মোড় দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও শতভাগ জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না তারাও। ২০২২ সালের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয় থেকে আত্মবিশ্বাস খুঁজছে সফরকারীরা। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে এই প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘কেউ যদি কখনো কোনো কিছু চিন্তাই না করে, সেটা করে দেখানো সম্ভব হয় না। তাই আমরা এখানকার কন্ডিশনেও জিততে পারি, এই চিন্তা করছি। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, নিউজিল্যান্ডে আমরা টেস্ট জিতেছি। আমরা পারি, এর আগেও করেছি। সেই বিশ্বাস থেকেই আত্মবিশ্বাসটা এসেছে।’

অবশ্য মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের জয়ের কৌশলই ডারউইনে অনুসরণ করছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ সময় ব্যাট করে প্রতিপক্ষের বোলারদের ক্লান্ত করা, স্কোর বোর্ডে বড় সংগ্রহ জমা করা ও লিড নেওয়া। এরপর সতেজ পেস আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। দীর্ঘ বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ক্লান্ত অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা এখন সফরকারীরা বোলারদের সামনে। সেবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে বাংলাদেশ।

এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরের মতো তখনো কেউ সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ টেস্ট জিততে পারে, এমন আশা করেননি। এবার অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। জবাবটা মাঠেই দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে লিড নিয়ে বেশ এগিয়ে ছিল তারা। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী এখনো ইনিংস ব্যবধানে না হলেও বড় জয়ের সুযোগ আছে শান্তদের সামনে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে অজিরা। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা। কিন্তু মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যামেরন গ্রিন (৪৩) ও অ্যালেক্স ক্যারির (১৯) পঞ্চম উইকেটের অবিচ্ছিন্ন ৩৯ রানের জুটি। রানের থেকে দুজনের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং বেশি ভাবাচ্ছে সফরকারীদের।

ডারউইন টেস্টের দুই দিন বাকি। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক এখনো নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। এবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘ক্রিকেটে কী হবে, কখনোই বলা যায় না। আশা করি, ম্যাচ শেষে মুখে হাসি নিয়ে হয়তো এক গ্লাস বিয়ার হাতে থাকবে। এখনো দুই দিনের ক্রিকেট বাকি। যদিও আমরা ম্যাচে পিছিয়ে আছি। তবে ক্রিকেট তো অদ্ভুত এক খেলা, তাই না?’ দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও এই টেস্টের ধারাভাষ্যকার মার্ক ওয়াহও অজিদের জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, ‘আগামীকাল প্রথম সেশনে যদি অস্ট্রেলিয়া কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান করতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।’

বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লেখার হাতছানি। তবে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ জোর দিয়ে এমন দাবিও করেননি যে, ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। বরং সাবধানতার বার্তা ঝরল তার কণ্ঠে, ‘এখন উইকেটটা এখনো ভালো আছে। আমরা আসলে সেভাবে চিন্তা করছি না, আমরা চেষ্টা করছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। কারণ প্রত্যেকটা উইকেট নিতে গেলে কষ্ট করে বল করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি রানটা যতটা আটকানো যায় এবং এই (লিড নেওয়া) রানের মধ্যে যদি আরও তিন থেকে চারটি উইকেট নিতে পারি, তখন আমাদের জন্য সহজ হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার ডানহাতি পেসার জশ হ্যাজলউড মনে করেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক। হাতে থাকা ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের দৈর্ঘ্য পঞ্চম দিনে টেনে নিতে পারলে জয়ের সম্ভাবনাও আছে। হ্যাজলউড বলেন, ‘উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। আমরা যদি আগামীকাল সারা দিন দীর্ঘ ব্যাটিং করতে পারি, তবে শেষ দিনে ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জয় পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো আমাদের মাথায় আছে এবং সে লক্ষ্যেই আমরা খেলছি।’