ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে শিশুসহ নিহত ১১, আহত ১৯

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে রাতভর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরের দিকে চালানো এই ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। গত জুন মাসে চুক্তি হওয়ার পর থেকে চলমান সংঘাত কমার পর, এটিই লেবাননে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলার ঘটনা।

লেবাননের নাবাতিয়াহ জেলার আনসার ও দেইর এজ-জাহরানি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে আনসার এলাকায় একটি বিমান হামলায় তিন শিশুসহ একই পরিবারের ৭ জন প্রাণ হারান এবং ২ জন আহত হন। অন্যদিকে দেইর এজ-জাহরানি এলাকায় হামলায় ৪ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষ যে এলাকাটিকে নিরাপদ মনে করতেন, সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে তারা লেবানন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে চালানো ‘অপমানজনক’ সরাসরি আলোচনা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। হিজবুল্লাহর মতে, ওয়াশিংটন লেবাননের সার্বভৌমত্বের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। একই সঙ্গে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত ও যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার একটি ধারাবাহিক যুদ্ধ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের সৈন্যদের ওপর হামলার জবাবেই তারা নাবাতিয়াহ ও আনসার এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা প্রহার করেছে।

তবে ইসরায়েলের এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম। এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ডে কোনো সামরিক কাঠামো ধ্বংস করার দায়িত্ব শুধুই লেবানিজ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের। কোনো বাহানাতেই ইসরায়েল লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে বা সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে না।’

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বিক শান্তি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

জাতীয় সংবাদ সংস্থার (এনএনএ) তথ্য অনুযায়ী, জুনের যুদ্ধবিরতির পর এবারই প্রথম দক্ষিণ লেবাননের এতটা ভেতরে গিয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সীমান্ত সংলগ্ন বিনতে জবেইলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভারী মেশিনগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। এমনকি ঐতিহাসিক স্থান ও কবরস্থানগুলোও ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা এবং পরবর্তী চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং লেবানিজ সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ছিল। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত তারা পিছু হটবে না। বর্তমানে লেবাননের প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা (পুরো দেশের প্রায় ৭ শতাংশ) ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সীমান্তে একের পর এক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক ফল মিলছে না, যা পুরো অঞ্চলের আতঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা