ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে আসামি ছিনতাই চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলার আসামি মো. ইউসুফকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুইজন হলেন-মো. সোহাগ খান (৩৬) ও মো. নাজমুল হাসান (১৯)।

রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা জেলার কোর্ট ইন্সপেক্টর কামাল উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে সাভার মডেল থানা একটি মামলায় আসামি ইউসুফকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে আনে। এসময় আসামি ইউসুফকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশ হাতেনাতে ২ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপ-পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাভার মডেল থানায় দায়ের করা প্রতারণার একটি মামলায় আসামি মো. ইউসুফকে (৩৮) আদালতের কার্যক্রম শেষে জেলখানায় পাঠানো উদ্দেশে আদালত প্রাঙ্গণে রাখা প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই আসামিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আসামিপক্ষের হামলায় এটিএসআই হানিফ মাহমুদ এবং কনস্টেবল তোফায়েল আহম্মেদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের বেধরক মারধর ও কিল-ঘুষি মারে এবং এক কর্মকর্তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে প্রায় ২ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

হামলা ও ধ্বস্তাধ্বস্তির মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তারা হলেন-মো. সোহাগ খান (৩৬) ও মো. নাজমুল হাসান (১৯)। গ্রেপ্তার সোহাগ খান সেই মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি এবং নাজমুল হাসান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসকালে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের তথ্য সরবরাহ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঘটনার সুযোগ নিয়ে অপর এক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা দান এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করে পুলিশ।