সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতিক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো এ বছরই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিষয়টি নিয়ে আরও অধিকতর পর্যালোচনা ও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘সময়মতো হবে। অবশ্যই হবে। এ বছরের মধ্যেই হবে।’
তবে সিদ্ধান্তের সার্বিক দিক ব্যাখ্যা করে তিনি যোগ করেন, ‘পে কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে তো, আমরা সবগুলো বিবেচনা করছি। আজকে অনেক আলোচনা হয়েছে, দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং আরও অধিকতর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আছে। বিধায় পরে আমরা আবার বসব। যখন ফাইনাল হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব।’
এর আগে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানান, যেকোনো মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হতে পারে।
২০২৫ সালে গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। অর্থ সংস্থানের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই সরকার চলতি বছরেই এই কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করল।
ওই পর্যালোচনা বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার।