সরকারি কর্মচারীদের ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি। গঠিত সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন।
সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে; যার মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতাদি কার্যকর করা হবে।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক বিশেষ ই-বুকে নতুন বেতন স্কেল সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেখানে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামের অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মচারীদের বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে, অষ্টম বেতন কমিশনের দীর্ঘ এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন সেই কমিশন ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশসহ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরবর্তীতে তা পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের সঠিক রূপরেখা নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ১০ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি গঠন করা হয়।