রবিউল আউয়ালের চাঁদ ছুঁয়ে দিল নবীজির সবুজ গম্বুজ

মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজের উপর একফালি বাঁকা চাঁদ। দৃশ্যটি নীরবে এসে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আকাশ মানুষকে কতভাবেই না মুগ্ধ করে! দিনের আকাশে সূর্যের আলো ও নীলের বিস্তার মানুষকে মুগ্ধ করে। আর রাতের আকাশ তো অন্য এক সৌন্দর্যের দরজা খুলে দেয়। চাঁদের নরম আলো, অসংখ্য নক্ষত্রের চলাচল মানুষকে থামিয়ে দেয়। 

রাতের সেই আকাশ যদি হয় নবীজির স্মৃতিবিজড়িত কোনো স্থানের, কিংবা নবীজির প্রেমে বিভোর কোনো আধ্যাত্মিক মিনারের, তবে তো কথাই নেই। মুহূর্তকেই যেন থামিয়ে দেয়। তেমনি একফালি রুপালি চাঁদ, ঠিক যেন সবুজ গম্বুজের সোনালি চূড়ার উপর পরম নির্ভরতায় এসে বসেছে। এমন দৃশ্য মানুষকে আপ্লুত করে।

এটি কোনো সাধারণ মাসের চাঁদ নয়! রবিউল আউয়ালের চাঁদ। হিজরি বর্ষপঞ্জির এই মাসটি এলেই মুমিন হৃদয়ে এক অন্যরকম শিহরণ জাগে। বাতাসে যেন ভেসে বেড়ায় অচেনা সুবাস, চারপাশের প্রকৃতি যেন সেজে ওঠে ভিন্ন আনন্দে। এই চাঁদের উদয় হওয়া মানেই নবীজির আগমনের বার্তা নিয়ে আসা। মাসের শুরুর দিকের এই বাঁকা চাঁদ যেন মুচকি হেসে বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, শেষ নবীর আগমন দিবস ঘনিয়ে আসছে!

এই মাসের ১২ তারিখ সোমবার জন্মগ্রহণ করেন মানবকুলের শিরোমণি হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে, যখন পৃথিবী ডুবে ছিল অজ্ঞতা, অরাজকতা ও অন্ধকারের ঘোর অমানিশায়, ঠিক তখনই ভোরের সূর্যের মতো উদিত হয়েছিলেন তিনি। তার আগমনে চারপাশের সব অন্ধকার দূরীভূত হয়ে চারদিক আলোকিত হয়ে উঠেছিল হেদায়েতের আলোয়।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ অনুসরণ এবং তার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তওফিক দান করুন। আমিন।