খাবারের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ‘খদর’-এ খাসির মাংস না থাকায় বিয়ের শুভ কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই কনের বাড়ি থেকে চলে গেলেন জাপানপ্রবাসী এক বর।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খাসির মাংসের দাবিতে অনড় ওই বরের নাম জুনায়েদ। তিনি কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় কনেপক্ষ। তবে শুরুতেই বর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত অতিথিদের সামনেই বিরূপ মন্তব্য করেন। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নির্ধারিত গেট ও তোরণে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বজনদের আপ্যায়ন পর্ব শেষে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বরের সামনে বিশেষ খাবারের আয়োজন ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। খাবারের প্লেটে চোখ পড়তেই বিপত্তি বাধে। মেন্যুতে খাসির মাংস না থাকায় জুনায়েদ ক্ষুব্ধ হন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, খাসির মাংস না দেওয়া পর্যন্ত তিনি খাবারে হাত দেবেন না এবং বিয়ের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করবেন না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কনেপক্ষের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন জুনায়েদ। একপর্যায়ে বিয়ের সব কাজ স্থগিত রেখেই কাউকে কিছু না বলে কনের বাড়ি থেকে চলে যান তিনি।
কনের বাবা শফিক মিয়া জানান, খাবারের বিষয়ে বরপক্ষের পক্ষ থেকে আগে কোনো চাহিদার কথা জানানো হয়নি। আগে জানালে অবশ্যই খাসির মাংসের ব্যবস্থা করা হতো। হঠাৎ এমন ঘটনায় তারা বিব্রত ও দুঃখিত। অনেক অনুরোধ করেও বরকে ফেরানো যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। বরকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করা হলেও খাসির মাংসের দাবিতে তিনি অনড় ছিলেন। একপর্যায়ে বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে চলে যান। ওই সময়ে বরের মেজাজ ও আচরণেও বেশ অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খাবারের কোনো বিশেষ চাহিদা থাকলে তা আগে জানালে কনেপক্ষ প্রস্তুতি নিতে পারত। কিন্তু আগে থেকে এমন কোনো বার্তা না থাকায় খাসির মাংস না থাকাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই আনন্দের অনুষ্ঠান অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অসম্পূর্ণ রেখেই বর একা কনের বাড়ি ছাড়েন।