সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে আবেদন

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ঘিরে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে আমরা গতকাল এনসিবিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছি।’

এই মামলায় গত মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দুই সাংবাদিক ও আরও ৩৮ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন আইসিটি-২।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল পলাতক ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, এই মামলার আরেক আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য তার কার্যালয় এর আগে পদক্ষেপ নিয়েছিল।

শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সেদিন সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। পরে সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এর ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।

গত ২৭ জুলাই এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনাল সেদিন তা আমলে নিয়ে আসামিদের মধ্যে ‘পলাতক’ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, তাদের মধ্যে আজিজ আহমেদ একজন।