মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে: ডিসি রোজী

কুমিলমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) রোজী আক্তার। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাত ধরেই সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে। তাই মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বেগম জামিলা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ‘আলোকিত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসি রোজী আক্তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা নিয়মিত পড়াশোনা করবে। বাবা-মাকে ভালোবাসবে এবং তাঁদের কাজে সহযোগিতা করবে। শিক্ষকদের সম্মান করবে। এসএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর শিক্ষকদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আসবে। এতে শিক্ষকরা খুশি হয়ে তোমাদের জন্য দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, তোমরাও একদিন আমার মতো ডিসি হবে। নাঙ্গলকোটকে আলোকিত করবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের আচরণ ও চলাফেরার ওপরও নজর রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কি না, কোনো ছাত্রী বাল্যবিবাহ বা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষকদের খোঁজ রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কর্মদক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণে কোর্স উপদেষ্টা হিসেবে অংশ নেন তিনি। প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসক, সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটররা অংশ নেন।

সেখানে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা শতভাগ মাদকমুক্ত নাঙ্গলকোট চাই। বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং বন্ধে আপনাদের কাজ করতে হবে। 

সরকারি সেবার সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই করতে হবে। অসচ্ছল মানুষকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে কর্মকর্তাদের ভালোভাবে জানতে হবে।

গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে ডিসি বলেন, টেকসই ও যুগোপযোগী জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে মানুষের পাশে থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক—এই বিষয়টি মাথায় রেখে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মেহেদী মাহমুদ আকন্দ, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চাকমা, জেলা সহকারী কমিশনার রাফিদ খানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।