গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে মুরাদনগরে ভাড়া নৈরাজ্য, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সিএনজি স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শুরু হয়েছে চরম ভাড়া নৈরাজ্য। সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকরা মনগড়া বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছুদিন ধরে উপজেলার ব্যস্ততম সড়ক মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ, মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর, মুরাদনগর-কোম্পানীগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর, কোম্পানীগঞ্জ-শ্রীকাইল, কোম্পানীগঞ্জ-কুমিল্লা সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গ্যাসের সঠিক সরবরাহ না থাকায় দীর্ঘ সময় ফিলিং স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে এই অজুহাতকে ঢাল বানিয়ে চালকরা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি ইলেকট্রিক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরাও সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।

ঢাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে  ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদনগরে সিএনজি দিয়ে যাতায়াতকারী একজন চাকরিজীবী যাত্রী মীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সংকট চালকদের সমস্যা হতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগে আমাদের পকেট কাটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ৮০ টাকার ভাড়া কখনো ১৫০ টাকা হতে পারে না। কোনো তদারকি না থাকায় যে যার মতো ইচ্ছা ভাড়ার হার বসিয়ে দিয়েছে। ভাড়ার নৈরাজ্যের বিষয়ে তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মুরাদনগর থেকে রামচন্দ্রপুর প্রতিদিন যাতায়াতকারী সুমন বলেন, এই সড়কে নিয়মিত ভাড়া ছিল ৪০ টাকা। এখন সেই ভাড়া নিচ্ছে ৭০-৮০ টাকা করে। কিছু বললে তারা উল্টো গ্যাস সংকট দেখিয়ে তর্ক করে।

রাসেল নামে আরেক যাত্রী বলেন, আমি বাখরাবাদ থেকে মুরাদনগর আসা যাওয়া করি। ভারা ৩০ টাকা করে হলেও গ্যাস সংকটের কথা বলে ৪০-৫০ টাকা করে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছি না। কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকলে পরিবার চালাব কীভাবে? অল্প যেটুকু গ্যাস পাচ্ছি, তা দিয়ে পোষাচ্ছে না বলেই কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছি।

রাস্তায় কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, মুরাদনগর উপজেলা সদরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এক চরম নৈরাজ্য চলছে। কোনো প্রকার নির্ধারিত নীতিমালা না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। প্রতিটি রুটে এই অহেতুক বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও বিষয়টি তদারকি করার যেন কেউ নেই।

যাত্রী সাধারণের দাবি, অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দ্রুত গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।