চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, জামালখানে পানি কেন?

চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে ছোট্ট ঔষধের দোকান মেমোরী ফার্মেসী। ১৯৯৫ সাল থেকে দোকানটি পরিচালনা করে আসছেন চিত্তরঞ্জন শীল। ৩৫ বছরের ব্যবসা জীবনে তিনি কখনও দোকানে পানি উঠতে দেখেননি। তবে সোমবার তার দোকানে হাঁটু পরিমাণ পানি উঠে যায়। নীচের তাকে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঔষধ নষ্ট হয়ে যায়। চিত্তরঞ্জন শীল বলেন, আমি এত বছর ধরে এই জায়গায় ব্যবসা করছি। 

কিন্তু কখনও দোকানে পানি উঠতে দেখিনি। এবার দোকনে পানি উঠে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এটা আমাদের ধারণার বাহিরে ছিল।

মেমোরি ফার্মেসীর পাশের দোকান স্বপন মেডিকেল হল। বৃষ্টির পানি ডুকে দোকানের অবস্থা এতই খারাপ হয়েছে, দুইদিনেও তা খোলা সম্ভব হয়নি। দোকানটির কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান দোকানি। 

শুধু এই দুইটি দোকান নয়, সোমবারের বৃষ্টিতে জামালখান এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে আশপাশের দোকান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে যায়। অতীতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠলেও জামালখান এলাকায় এত বেশি পানি উঠার রেকর্ড এটাই প্রথম। স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন জামালখানে হঠাৎ এত পানি কেন? 

প্রশ্নের কিছুটা উত্তর মিলল মেমোরি ফার্মেসী থেকে কয়েক কদম এগিয়ে জামালখান খাল পাড়ে যেতেই। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পাড়ে পড়ে আছে বিশাল আকারের গাছের গুঁড়ি, তোষক, বালিশ, গাছের ডাল পালা, পলিথিন থেকে শুরু করে নানা ধরণের ময়লা আবর্জনা। স্থানীয় শ্রমিকরা খাল থেকে এসব তুলে পাড়ে স্তুপ করে রেখেছেন। সিকদার হোটেলের পাশে গিয়ে দেখা যায়, খালের ভেতরেই ময়লা আবর্জনা জমে একপাশ বন্ধই হয়ে আছে। আরও কিছু দূরে দেখা যায়  ইট, বালি দিয়ে খাল ভরাট হয়ে আছে।

স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক আজিজুল ইসলাম বলেন, স্তুপ করে রাখা গাছ, তোষকসহ বিভিন্ন ধরনের এসব ময়লা আবর্জনা নালা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ময়লার কারণে নালা জ্যাম হয়ে যায়। ফলে পানি যেতে না পরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ ময়লা আবর্জনা সব নালায় ফেলছে। এতে করে নালা জ্যাম হয়ে গেছে। নালার পাশে থাকা সব জানালা বন্ধ রাখার দাবিও জানান তিনি। 

জামালখানে পানি উঠার কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, আমরা খবর নিয়ে যতটুকু জেনেছি, জামালখান খালে তোষক, নারিকেলের খোসা, গাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ময়লা জমে নালা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পানি জমে গেছে। 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া মেগা প্রকল্প ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই মেগা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি খালের অন্যতম একটি হলো জামালখান খাল। খালের পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, পলল ও বর্জ্য অপসারণ এবং প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার কাজ সেনাবাহিনী করছে।

প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, জামালখানে অতীতে কখনো জলাবদ্ধতা হয়নি। অদূর ভবিষ্যতেও হবে না, যদি জনগণ সচেতন হয়। খালের মধ্যে বড় গাছ, তোষকসহ এমন এমন বর্জ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো নালায় থাকার কথা না। এসব বর্জ্য অপসারণের পরপরই পানি নেমে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণের ভূমিকাও অপরিসীম। জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। ময়লা আবর্জনা খাল, নালায় না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।