নাটোরের লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনা, আসবাবপত্র তছনছ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ কেটে দেওয়ার ঘটনায় লালপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। লিখিত এজাহারে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও যুবদলের অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপির তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওই দিন দুপুরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হন। একপর্যায়ে ৪০-৫০ জনের একটি দল ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে শুরু করেন। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অফিসে প্রবেশ করেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ফলাফল বাতিলের জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। উত্তেজনার একপর্যায়ে তারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তাঁর পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। একই সময়ে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্রে লাথি মেরে ভাঙচুর চালানো হয়।
তাছাড়া ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য জোরজুলুম করা হয় এবং একপর্যায়ে ক্যামেরার সংযোগের তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনওকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে কক্ষে অবস্থানরত কয়েকজন তাঁর গায়ে ও পুরো কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন। পরবর্তীতে তারা উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে জমায়েত হন।
ঘটনার সময়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককেও মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এবং তারা প্রতিবাদস্বরূপ সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার পরিপ্রক্ষিতে পরবর্তীতে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের তিন কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সংবাদ বর্জন এবং ছাত্রদলের তিন কর্মীকে বহিষ্কারের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সরকারি দপ্তরে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত ও মারধর করা, আসবাবপত্র তছনছ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে। একই সাথে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হামলার এ ঘটনায় মোট ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে লালপুর থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।