টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: শ্রীলঙ্কাকে হারালেও বাংলাদেশের নিচেই থাকল ভারত

গলের ধীরগতির ও নতুন বলের জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন উইকেটে পঞ্চম দিনে দারুণ ধৈর্য ও নিখুঁত নিবেদন দেখিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। এই জয়ে শ্রীলঙ্কার লড়াকু মিডল অর্ডার প্রতিরোধ গড়ার দীর্ঘ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তরুণ স্পিনার মানভ সুথারের বিধ্বংসী বোলিং ঘূর্ণিতে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ইনিংস। ম্যাচে দুই ইনিংসে অসাধারণ বোলিং করে মোট ১০ উইকেট শিকার করে ভারতের এই জয়ে এককভাবে নায়ক বনে গেছেন সুথার।

আর এই জয়ের পরও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে পয়েন্ট তালিকার পাঁচেই থাকল শুভমান গিলের দল। ১০ টেস্টে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ৫৩.৩৩% শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের ঠিক পরেই অবস্থান করছে ভারত।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকা

র‍্যাংক দল ম্যাচ জয় পরাজয় ড্র পয়েন্ট পয়েন্ট %
অস্ট্রেলিয়া  ৮৪ ৭৭.৭৮%
দক্ষিণ আফ্রিকা  ৩৬ ৭৫.০০%
নিউজিল্যান্ড  ৫২ ৭২.২২%
বাংলাদেশ  ৪০ ৬৬.৬৭%
ভারত  ১০ ৬৪ ৫৩.৩৩%
শ্রীলঙ্কা  ২০ ৩৩.৩৩%
ইংল্যান্ড  ১৩ ৩৮ ২৪.৩৬%
পাকিস্তান  ১৬ ২২.২২%
ওয়েস্ট ইন্ডিজ  ১২ ৩০ ২০.৮৩%
 

ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। আর স্বাগতিকদের ২৮৮ রানের পাহাড়সম রাস্তার। সেখানে শ্রীলঙ্কার ব্যাটার সোনাল দিনুশা এবং অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা উইকেটে থিতু হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। দিনুশা তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং ধনঞ্জয়াও একটি দায়িত্বশীল হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত রান আটকে রাখার কৌশল নেয়, যাতে দ্বিতীয় নতুন বল পাওয়ার পর কাজটা সহজ করা যায়।

অবশেষে বোলিংয়ে এসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ধনঞ্জয়াসাজঘরে ফেরান তিনি। লঙ্কান অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। দলীয় সংগ্রহ তখন ১৪২ রান আর সাজঘরে অর্ধেক দল। এর কিছুক্ষণ পরই, ৭৬তম ওভারে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় থাকা দিনুশাকে আউট করে ম্যাচের চূড়ান্ত মোড় ঘুরিয়ে দেন সুথার। দিনুশা ব্যাট থেকেই আসে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের দলীয় সর্বোচ্চ ৮৪ রান। তাকে আউট হওয়ার পর মাত্র ১০ বলের ঝড়ে বাকি ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার লেজ ছেঁটে ফেলেন এই স্পিনার। এতে, নতুন বল নেওয়ার আর কোনো প্রয়োজনই পড়েনি। ২০৬ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, আর ১৬৫ রানের বড় জয় সফরকারীদের।

পুরো টেস্ট জুড়েই ভারতকে লড়তে হয়েছে অপ্রত্যাশিত ও বাজে আবহাওয়ার সঙ্গে, যা প্রথম ইনিংসে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের শট নির্বাচনেও প্রভাব ফেলেছিল। তবে ম্যাচজুড়ে ভারতীয় বোলিং আক্রমণ ছিল বেশ ধারালো। সুথারের অবিরাম উত্থান, জাদেজার কার্যকর হুমকি, পেসারদের চমৎকার নিয়ন্ত্রণ (যারা মিলে ৫ উইকেট শিকার করেছেন) এবং কুলদীপ যাদবের ছন্দ ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া শুভমান গিলের দলটিকে দারুণ স্বস্তি দিয়েছে।

প্রথম ইনিংসে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা ভারত পেয়েছিল ৪৬২ রানের বড় সংগ্রহ। সেখানে মিডল অর্ডার ব্যর্থ থাকলেও ১৬৭ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলেন তিনে নামা দেবদূত পাদ্দিকাল। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই। আর লোকেশ রাহুল করেন ৮২ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ছন্নছাড়া হলেও দিনুশার সেঞ্চুরি আর ডিকভেলার ৮০ রানে চড়ে ২৮৪ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। এতে ১৭৮ বড় লিড পেয়েছিল ভারত, তাইতো দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রানে আটকে গেলেও ৩৭২ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় সফরকারীরা।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হবে কলম্বোতে, যেটি শুরু হবে আগামী ২৩ আগষ্ট।