উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল আসার আগেই কিমের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে ঘনিষ্ঠ মহলে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। পত্রিকাটি বলেছে, ব্যক্তিগত আলাপে নিজের আসন্ন এশিয়া সফরেই কিমের সঙ্গে সশরীরে আলোচনায় বসতে চান ট্রাম্প। চলতি বছরে নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেই সময়েই এই বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি হতে পারে।
নিজের প্রথম মেয়াদে মোট তিনবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ২০১৯ সালে দুই কোরিয়ার অসামরিক এলাকা পেরিয়ে কিছুক্ষণের জন্য উত্তর কোরিয়ার মাটিতেও পা রেখেছিলেন তিনি। গত শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দুজনের পুরনো একটি ছবি শেয়ার করেন ট্রাম্প। তারপর থেকেই নতুন করে দুজনের বৈঠকের জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিমের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু করার এবং পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে রাজি করানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তবে, বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, দুই নেতার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেছেন, উপযুক্ত সময়েই ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়র সময় সংক্ষিপ্ত করে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। গত বুধবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিপস অব স্টাফ জানায়, ওয়াশিংটনের অনুরোধে সোমবার শুরু হওয়া উলচি ফ্রিডম শিল্ড (ইউএফএস) মহড়া আগামীকাল সমাপ্ত হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিমুলেটেড কমান্ড মহড়ার পাশাপাশি পৃথকভাবে যে যৌথ আউটডোর মহড়া চলার কথা ছিল, তার পরিধিও ‘আংশিক কমানো’ হবে। তবে এ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে এখনো সমন্বয় করছে দুই দেশের সামরিক বাহিনী। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, মহড়ার দ্বিতীয় ধাপ পুরোপুরি বাতিল করায় ৬ দিন আগেই শেষ হচ্ছে আয়োজন। এর আগে গত রবিবার ট্রাম্প বলেন, এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি ‘খুশি নন’। মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভেদের কারণেই সিউলের ওপর অসন্তুষ্ট ট্রাম্প।