নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভেনেজুয়েলায় নিজেদের সমর্থিত সরকার বসানোর পর থেকে দেশটির উৎপাদিত অর্ধেকের বেশি তেলে ভাগ বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হিউস্টনে একটি জ্বালানি শিল্প সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আন্ডার সেক্রেটারি কাইল হাউস্টভেইট জানান, ভেনেজুয়েলার দৈনিক প্রায় ১২.৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের মধ্যে ৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার ভারী ও উচ্চ সালফারযুক্ত বিশেষ ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী করে গড়ে তোলা যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারগুলোতেই এই তেল পাঠানো হচ্ছে।
হাউস্টভেইট আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করছে ওয়াশিংটন। ভারী অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে মেশানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক ১ লাখ ব্যারেলেরও বেশ ন্যাপথা পাঠাচ্ছে ভেনেজুয়েলায়। এই বাণিজ্য কাঠামোকে ‘এক চমৎকার জ্বালানি অংশীদারত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই লেনদেনের ফলে দুই পক্ষই প্রকৃতপক্ষে লাভবান হচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানান, তাদের দেশ তেল উৎপাদন আরও বাড়াতে আগ্রহী। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘পিডিভিএসএ’র সহ-সভাপতি জোভানি মার্টিনেজ জানান, চলতি আগস্ট মাসের শেষের মধ্যেই দেশের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক ১২.৪৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে এবং চলতি বছর রপ্তানি বেড়েছে ১৯.৭ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, এ বছর দেশে জ্বালানি উৎপাদন ১২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে ৫.৪ শতাংশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা জ্বালানি খাতে সংস্কার আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে এর সুফল প্রত্যাশা করছি’। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার নিজস্ব শোধনাগারগুলোকে আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন এবং ভারী তেলের জন্য প্রয়োজনীয় মিশ্রক দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মোট মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে কয়েক দশকের অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে দেশটির অবদান নেমে এসেছিল মাত্র ১ শতাংশ। ২০১৫ সালের শেষে ভেনেজুয়েলা দৈনিক মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছিল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যেত দৈনিক ১ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেলের মতো।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুতের ঠিক পরপরই ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে তেলের অর্থ সঠিক ব্যবহারে আমি নিজেই এই অর্থের তদারকি করব। পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থের ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তিনি জানান, কারাকাস প্রতি মাসে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেটের চাহিদা পাঠাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র আগেই নির্ধারণ করে দেবে যে সেই অর্থ কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরেই ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। ২৭ জুলাই ট্রাম্প সেই প্রতিবেদনের জবাবে বলেন, প্রকৃত অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ এই তথ্যের চেয়েও বেশি। তবে এই অর্জিত অর্থ কোথায় বা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সে বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রায় নীরব থেকেছে।