চট্টগ্রামে কোদালের আঘাতে স্ত্রী খুন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে স্বামীর কোদালের আঘাতে স্ত্রী নুরহাবা (২৫) খুন হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার উল্লাপাড়া আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক স্বামী সলিম উদ্দিনকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। নিহত নুরহাবা উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত এরশাদ উল্লাহর মেয়ে। আটক স্বামী সলিম একই ক্যাম্পের আব্দুল আমিনের ছেলে।

জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার উল্লাপাড়া কলোনিতে মো. সলিম (৩০) তার স্ত্রী নুরহাবাকে (২৫) নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। তারা টেকনাফ উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্প থেকে এসে কোরবানির আগে এখানে বাসা ভাড়া নেন। প্রায় সময় তাদের মধ্যে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ও ঝগড়াঝাটি হতো। ঘটনার সময় তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সলিম নুরহাবার ওপরে কোদাল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। চন্দনাইশ থানার ওসি দিদারুল ইসলাম সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী সলিম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রাজবাড়ীর পাংশায় চোর সন্দেহে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল ভোরে উপজেলার কসবামাজাইল এলাকার করিম ম-লের মিলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি পূর্বশত্রুতার জের ধরে তুলে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জজ আলী উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল গ্রামের শুরাই বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কসবামাজাইল ও পাট্টা ইউনিয়নের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছিল। গত জুন মাসে মাজাইল গ্রামের জামিন বিশ্বাসকে (নিহতের চাচা) পিটিয়ে হত্যা করে দড়ি বাংলাট এলাকার লোকজন। এর নেতৃত্ব দেন কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আকমল হোসেন টিক্কা ও হাকিম ম-ল। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় আকমল হোসেন টিক্কাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়। আসামিরা জামিনে এসে পরিকল্পিতভাবে জজ আলী বিশ্বাসকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

পাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি রাতে জজ আলীকে কারা যেন ডেকে নিয়ে যায়। সকালে জানা যায় চোর সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘চোর সন্দেহে এক যুবককে পেটানোর খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।’