মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করার দাবি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করে সব বৈধ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্যরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার কথা বলে আসছি। তবে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একচেটিয়া নিয়োগ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।’ ‘কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত সিন্ডিকেট ফি আদায়ের পরিকল্পনা হচ্ছে’ এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

বিগত সরকারের সময়ে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ উঠেছিল, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আবারও বর্তমান সরকারকে প্রভাবিত করে একই ধরনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখন যদি ১৭ কোটি টাকা ও কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে কি আগের চেয়েও শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে না?’

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে

১. সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান সুযোগ : নেপালসহ অন্য সোর্স কান্ট্রির মতো বাংলাদেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে। অন্য দেশের জন্য এক নিয়ম আর বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করা বৈষম্যমূলক এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন।

২. বৈষম্যমূলক এজেন্সি সিলেকশন বন্ধ করা : ২৫,৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে পুরো শ্রমবাজার কুক্ষিগত করা যাবে না। কোনো এজেন্সির তালিকা প্রয়োজন হলে তা হতে হবে প্রকাশ্য, স্বচ্ছ, যৌক্তিক এবং সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নীতিমালার ভিত্তিতে।

৩. সমঝোতা স্মারকের বিতর্কিত ধারা সংশোধন : বাংলাদেশের কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে তা মালয়েশিয়া কর্র্তৃপক্ষ বাছাই করবে এ ধরনের বিধান সংশোধন করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে কারা কর্মী পাঠাবে তা বাংলাদেশ সরকার নির্ধারণ করবে অথবা নিয়োগকর্তা ঠিক করবেন।

৪. বোয়েসেলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু : মালয়েশিয়া সরকার যদি একান্তই সীমিত সংখ্যক লাইসেন্সের মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। এতে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং বোয়েসেল প্রয়োজনীয় তদারকি ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করবে। পরে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি নিজ নামে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।

৫. কম খরচে কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করা : বিএমইটির মাধ্যমে স্বচ্ছ কর্মী ডাটাব্যাংক তৈরি করতে হবে। সরকার নির্ধারিত যৌক্তিক অভিবাসন ব্যয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে তিন কিস্তিতে গ্রহণের ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।