অংকন-আমিনুলের দৃঢ়তায় দক্ষিণ আফ্রিকাতে বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের ড্র

পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে হার চোখ রাঙানি দিচ্ছিল শুরু থেকেই। প্রথম ইনিংসে বিশাল পাহাড়সমান রানের বোঝা আর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ ইমার্জিং দল পরাজয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছিল। তবে শেষ দিনে মাহিদুল ইসলাম অংকন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং নাঈম হাসানের অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা ও প্রতিরোধে হার এড়িয়ে দুর্দান্ত এক ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সফরকারী দল।

চার দিনের এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়া ব্যাটাররা ৫ উইকেটে ৫১৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। সেই রানপাহাড়ের জবাবে ২৩৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে স্বাগতিকরা বাংলাদেশ ইমার্জিং দলকে ফলোঅন না করিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নামে ব্যাটিংয়ে, সেখানে ৪ উইকেট ১৩৬ রান যোগ করে সেই ইনিংসও ঘোষণা করে দেয়।

এতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১০ রানের। বিশাল এই রান তাড়ায় নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের শুরুর দিকে দ্রুত টপ অর্ডার ব্যাটাররা সাজঘরে ফিরে গেলে হারের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়।

তবে দলের বিপদের দিনে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে ষষ্ঠ উইকেটে অংকন ও আমিনুলের জুটি দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলে। আমিনুল দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ১২টি চারের সাহায্যে ১৭৪ বলে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে আউট হন। এরপর দলের বাকি সময়টা আগলে রাখেন অংকন ও স্পিনার নাঈম হাসান।

ষষ্ঠ উইকেটের পর সপ্তম উইকেটেও অবিচ্ছিন্ন থেকে বাকি সেশনগুলো সফলভাবে পার করে দেন তারা। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ২০৮ বল মোকাবিলা করে ৭ চারে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন অংকন। আগের ইনিংসেও দারুণ ছন্দে ছিলে তিনি, সেঞ্চুরি একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে ফিরেছিলেন ৯৭ রান করে। 

অন্যদিকে, তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৭৯ বলে ৭ চার ও আগ্রাসী শটে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন নাঈম। এই দুই তরুণের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ চার দিনের ম্যাচটি শুরু হবে আগামী রবিবার।