বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের তারল্য সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণার পর দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে উঠলেও মুনাফা তুলে নেওয়ায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ৪ শতাংশের বেশি বাড়ার পর বৃহস্পতিবার স্পট স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে। এর আগে দাম ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৭৯ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২ জুনের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম সামান্য পরিবর্তিত হয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের তারল্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের বাড়তি মুনাফা দাবিও এতে ভূমিকা রাখে।

এদিকে মার্কিন ডলার তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। ডলারের দুর্বলতা সাধারণত ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণকে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সস্তা করে।

টেস্টাইলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতিবিষয়ক প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বড় দরবৃদ্ধির পর স্বর্ণের বাজারে কিছুটা মূল্য সমন্বয় স্বাভাবিক। তাঁর মতে, দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এ স্তরের ওপরে দাম ধরে রাখতে পারলে স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

এর মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, ঋণ ও সরকারি ব্যয় কমাতে না পারায় আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক।

এদিকে গত মাসের ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন।

সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ এবং বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩১ শতাংশ।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে বৃহস্পতিবার স্পট রুপার দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৬০ ডলার, প্লাটিনামের দাম ১.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৪ দশমিক ৯১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমেছে।