যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে ইরান আগের তুলনায় আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইরান এখনো নিয়মিত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইরানের ফার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে মোহেবি বলেন, আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা আগের যুদ্ধগুলোতে ব্যবহৃত ওয়ারহেডের তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন, সামরিক অস্ত্রের সব ক্ষেত্রেই ইরান ধারাবাহিকভাবে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। দেশটি আরও নিখুঁত, অধিক ধ্বংসাত্মক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র তৈরি করছে।
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আবার কোনো যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের অস্ত্রশস্ত্র অবশ্যই আগেরগুলোর চেয়ে ভিন্ন হবে। এই পার্থক্য ওয়ারহেডের প্রজন্ম, হামলার নির্ভুলতা, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কিংবা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে।’
তিনি জানান, ইরান কখনোই অস্ত্র উৎপাদন ও উন্নয়ন বন্ধ করেনি। প্রতিদিনই এ ক্ষেত্রে দেশটি অগ্রগতি করছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মোহেবি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই এগিয়ে যাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ওই সময় ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেই এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হন।
এর প্রায় ৪০ দিন পর, এপ্রিলের শুরুতে, ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে দেশটির নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেছে তেহরান।