মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস ঈদে মিলাদুন্নবী তথা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপন থেকে মুসলমানদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। এটি বেদয়াত তথা ধর্মের মধ্যে নতুন সংযোজন। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নবীজির সিরাত নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওই বক্তব্যে শায়খ সুদাইস বলেন, মহানবী (সা.), খুলাফায়ে রাশেদ্বীন কিংবা সাহাবায়ে কেরামের কেউ মিলাদুন্নবী উদযাপন করেননি। মুসলমানদের দায়িত্ব হলো, মহানবী (সা.)-এর অনুসরণ করা এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো বিষয় সংযোজন না করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, (দ্বীনের ক্ষেত্রে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান। কারণ প্রত্যেক নতুন বিষয় বেদয়াত এবং প্রত্যেক বেদয়াত পথভ্রষ্টতা।
সাহাবিদের বক্তব্য তুলে ধরে শায়খ সুদাইস বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, অনুসরণ করো, নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না। তোমাদের জন্য যা যথেষ্ট করা হয়েছে, সেটাই আঁকড়ে ধরো।
হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেছেন, প্রত্যেক বেদয়াতই পথভ্রষ্টতা, মানুষ সেটিকে ভালো মনে করলেও।
এ প্রসঙ্গে তিনি ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্যও তুলে ধরেন। ইবনে তাইমিয়্যা বলেছেন, শরিয়তের ভিত্তি ছাড়া কোনো সময় বা মৌসুমকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা হলে তা বেদয়াত।
রবিউল আউয়াল মাসে নবীজির জন্মদিন হিসেবে কোনো রাত বা অনুষ্ঠানকে বিশেষভাবে উদযাপন করাকেও তিনি পূর্ববর্তী নেককার মুসলিমদের আমলবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এ ধরনের আয়োজনের মধ্যে খ্রিস্টানদের কিছু ধর্মীয় রীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
শায়খ সুদাইস বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ হলো তার সুন্নাহ অনুসরণ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।’
বক্তব্যের শেষে মুসলমানদের উদ্দেশে শায়খ সুদাইস বলেন, আপনারা নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। এসব বেদয়াত ও পথভ্রষ্টতা পরিত্যাগ করুন। নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন।