জামায়াতে ইসলামী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সংকীর্ণভাবে দেখছে সরকার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকারের তরফে সংকীর্ণভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে অনুযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ভোটের ফল কী হবে, তা জানা সত্বেও জনগণের সামনে বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নিয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোটে জয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলাম জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মন্ত্রিসভার একজন সদস্য বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্খিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে। জনগণ নতুন করে উপলব্ধি করেছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার কেন অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্খাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।’