ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে চারজনকে মন্ত্রী করা হয়েছে, দুজনকে করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী। বঙ্গভবনে গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের শপথ পাঠ করান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলে মির্জা ফখরুলের ছেড়ে আসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মঈন খান আসতে পারেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। আর তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা করা হতে পারে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরী পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হচ্ছেন। শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। আর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে। এই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) অন্য একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। তখন গুঞ্জন ওঠে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বন্দ্বের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এবার সেই জায়গায় সাচিং প্রু জেরীকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে সহযোগিতার জন্য প্রতিমন্ত্রী করা হচ্ছে শামীম কায়সার লিংকনকে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। গতকাল রদবদলের মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য দাঁড়াল ৫৫ জন। এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় ছিলেন। আর হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা রেখেছেন। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেছিলেন আপনাদের মেয়াদ ছয় মাস। গত ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। ঠিক তার তিন দিন পর মন্ত্রিসভায় রদবদল করলেন প্রধানমন্ত্রী। চারজনকে মন্ত্রী ও দুইজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।’
মন্ত্রিসভার আকার বাড়লেও আলোচনা-সমালোচনায় থাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি কিংবা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বিএনপি নেতাদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের জায়গা পাওয়া নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ পায়নি। এ ছাড়া রাজপথে আন্দোলনে বিএনপির শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কারও কারও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার গুঞ্জনও সত্যি হয়নি।
বিএনপির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তর জানান, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় কমিয়ে তাদের ভার লাগব করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। বিশেষ করে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের ভার কমানোর গুঞ্জুন ছিল। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের কথা শোনা যাচ্ছিল। গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আর সালাহউদ্দিন আহমদ পাচ্ছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।