বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়ক অবরোধ করেন তারা। এদিকে হত্যাকা-ের ঘটনায় ৬ ঘন্টার মধ্যেই ১১ আসামিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত বুলবুল পেশায় একজন ইজিবাইক গ্যারেজ ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন তিনি। এতে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জেরে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাতে সিফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র ব্যক্তিরা বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হানা দিয়ে ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়। এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় শেখ সিফাতসহ ১০-১৫ জন বুলবুলের গতিরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

হত্যাকা-ের পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে বন্দরের পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ এলাকা থেকে সন্ত্রাসী শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকা-ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সিফাত, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুমান, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ, রিয়াদ, মো. সিয়াম, মোসা. মিনারা, নাসিমা, রুমা, ইফরান, ইয়াসমিন ও সিজান ওরফে জিসান।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ জানান, বুলবুল হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সড়কে টায়ার, বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে অবরোধ করে রাখলে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। পরে এগারোটার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন। তিনি জানান, বুলবুল গত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।