চিকিৎসা ছুটি নিয়ে স্কুলশিক্ষিকা যুক্তরাষ্ট্রে

কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাকলি রক্ষিত ছয় মাসের ছুটি নিয়ে ১১ মাস ধরে অনুপস্থিত। এতে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ৬ মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কাকলি। নির্ধারিত সময় শেষে সেখান থেকে আবার ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন তিনি। তা মঞ্জুরও হয়। ফের আবার ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেছেন।

পেশকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম জানান, কাকলির স্বামীসহ পরিবারের অধিকাংশ লোকজন আমেরিকায় থাকেন। কাকলিও চিকিৎসার কথা বলে তাদের ওখানে গেছে। তার আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিষয়টি আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কাকলি রক্ষিত ছয় মাসের চিকিৎসা ছুটি নিয়েছিলেন। এরপর সেটি বাড়ানো হয়। কিন্তু তারপরের আবেদনটি তিনি বাংলাদেশ কাউন্সিলের মাধ্যমে দেননি। আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় আমরা তার ছুটি বাতিল করি এবং তাকে শোকজ করি। শোকজের জবাব তিনি দিলেও তারও যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেননি তিনি। এ কারণে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার বলেন, কাকলিকে উপজেলার পক্ষ থেকে তিনবার শোকজ করা হয়েছে। এবার আমরা তাকে নিয়োগদাতা হিসেবে তিনবার শোকজ করব। এর মধ্যে একবার আমরা করেছি। শোকজের জবাব যথাযথ না হলে তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাও যদি তিনি না করেন। এরপরেই আমরা তাকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকরিচ্যুতি করব।

তিনি আরও বলেন, কাকলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।