এক ক্লিকেই হাতের মুঠোয় পুরো ঘর

বাসা থেকে পথে বেরোনোর পর হঠাৎই মনে পড়ল ঘরের ফ্যান কিংবা এসির সুইচ তো বন্ধ করা হয়নি। এমনটি আগে হলে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো, কিন্তু এখন সেই দুর্ভাবনা নেই। পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে মাত্র এক ক্লিকেই বন্ধ করে দেওয়া যায় ঘরের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সুইচ। ঠিক একইভাবে বাড়ি ফেরার আগেই চালু করে রাখা সম্ভব ঘরের এসি। প্রাত্যহিক জীবনের এমন নানা জটিলতা সহজ করে দিচ্ছে ‘ফুজি টেক’-এর হোম অটোমেশন প্রযুক্তি।

বন্দরনগরীর পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো ২০২৬’-এ এসে এমন আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন দর্শনার্থীরা। গতকাল শুক্রবার প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে ফুজি টেকনোলজির আকর্ষণীয় স্টলে দেখা মেলে কৌতূহলী দর্শনার্থীদের। বাসা-বাড়িকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার নানা কৌশল দেখতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

মূলত ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ বা আইওটি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে এ স্মার্ট ব্যবস্থা। ঘরের একটি কেন্দ্রীয় গেটওয়ে বা হাবের সঙ্গে ওয়াইফাই বা জিগবি সিগন্যালের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে পুরো বাড়ির লাইট, এসি, কার্টেন, মোশন সেন্সর ও সিকিউরিটি লক। ব্যবহারকারী বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল অ্যাপে একটি স্পর্শে কিংবা ঘরে বসে আমাজন অ্যালেক্সা ও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে মুখ নিঃসৃত ভয়েস কমান্ডেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ঘরে ব্যবহৃত নানান বৈদ্যুতিক যন্ত্র।

এ সুবিধার আওতায় বাড়ির মূল দরজায় থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পাসকোড ও কার্ড রিডারের সুবিধাসংবলিত স্মার্ট লক। সঙ্গে যুক্ত থাকা ভিডিও ডোরফোন ও মোশন সেন্সর সীমানায় অচেনা কারও উপস্থিতি পেলেই স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন পাঠিয়ে দেয় ফোনে। ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে যুক্ত হয়েছে রঙ ও আলোর তীব্রতা পরিবর্তনের উপযোগী লাইটিং। সঙ্গে থাকা মোটরাইজড স্মার্ট কার্টেন বা পর্দাগুলো অ্যাপের নির্ধারিত সময়সূচি কিংবা দিনের আলোর উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে নিজে থেকেই খোলা বা বন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া ক্লাইমেট কন্ট্রোল সুবিধার মাধ্যমে এসি ও ঘরের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুকূলে থাকে, আর ঘরে মানুষের অনুপস্থিতি শনাক্ত করে সেন্সরগুলো অহেতুক লাইট-ফ্যান বন্ধ রেখে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, এ সিস্টেমটি টাচ, ভয়েস কমান্ড ও অ্যাপসের মাধ্যমে কাজ করে। এর আওতায় লাইট, ফ্যান, এসি, পর্দার নিয়ন্ত্রণ সুইচে টাচ করে যেমন করা যায়, তেমনই খাটে শুয়ে কিংবা ঘরের বাইরে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রদর্শনীতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ প্রযুক্তি সম্পর্কে আগে শুনেছি। এখানে এসে বিস্তারিত জানার সুযোগ হলো।