যুদ্ধ মানবসভ্যতার সবচেয়ে নির্মম, অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি। ব্রোঞ্জ থেকে লোহা, বারুদ থেকে ছাপাখানা, রাডার থেকে পরমাণু বোমা, জিপিএস থেকে ইন্টারনেট—ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্ম বা ত্বরণ ঘটেছে যুদ্ধের চুল্লিতে। জিপিএস আর ইন্টারনেট নিজেই এসেছে সামরিক প্রকল্প থেকে। রহস্যটা সরল: যুদ্ধের জরুরি প্রয়োজন কয়েক দশকের গবেষণাকে গুটিয়ে আনে কয়েক বছরে। ধ্বংসের আড়ালে এটিই যুদ্ধের গভীরতম ছাপ কিন্তু তার দাম প্রতিবার শোধ হয় রক্তে, আর সেই রসিদ কেউ রাখে না।
এআই যুগে সেই সমীকরণটাই উল্টে গেছে। আগে যুদ্ধ চালাত প্রযুক্তিকে, আর সাধারণ মানুষ পেত তার উচ্ছিষ্ট; এখন বাণিজ্যিক প্রযুক্তিই চালাচ্ছে যুদ্ধকে। ‘প্রযুক্তি কোম্পানি’ আর ‘প্রতিরক্ষা ঠিকাদার’-এর মাঝের দেওয়াল রাতারাতি ধসে পড়েছে। কিন্তু গভীরতম বদলটা হাতিয়ারে নয়, সিদ্ধান্তে—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধের ধোঁয়াশা কাটছে মানুষের বিচার বিবেচনায় নয়, মেশিনের পূর্বাভাসে। যুদ্ধ বরাবর মানবসভ্যতাকে ঠেলে এগিয়ে নিয়েছে; এখন মানবজাতির সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ আবিষ্কার, সাহায্য করার জন্য বানানো সফটওয়্যার হয়ে উঠছে যুদ্ধের নতুন সিদ্ধান্তগ্রহীতা।
ইউক্রেন আর ইরানের আকাশে গত এক বছরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো একটি সত্যই প্রতিষ্ঠা করেছে: এআই আর যুদ্ধের হাতিয়ার নয়, এটাই এখন যুদ্ধের চালক। প্রশ্নটা তখন কেবল প্রযুক্তির নয়—যে মেশিন মানুষ হত্যার সিদ্ধান্তে অংশ নেয়, তার দায় কে নেবে?
ইউক্রেন: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রোন গবেষণাগার
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এআই যুদ্ধের প্রথম পরীক্ষাগার। সেখানে এআই এখনো পুরো যুদ্ধ চালায় না, কিন্তু প্রতি সপ্তাহে শিখছে। আইইইই স্পেকট্রাম মার্চে লিখেছে, স্বয়ংক্রিয় ড্রোনই এখন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড—কারণ রাশিয়ার ইলেকট্রনিক জ্যামিং যখন যুদ্ধের সৈনিকদের পরিচালিত রিমোট নিয়ন্ত্রণ অচল করে দেয়, তখন মেশিন ভিশনই লক্ষ্য ধরে রাখে।
এর চেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে তথ্যের দিকে। জুনে ডিফেন্সস্কুপ জানিয়েছে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের পাঁচ লাখ ঘণ্টার ড্রোন ফুটেজ এখন এআই প্রশিক্ষণের জন্য উন্মুক্ত। অর্থাৎ, এই যুদ্ধ এখন আগামী যুদ্ধের এআই তৈরি করছে। পেন্টাগন এরই মধ্যে ইউক্রেনের ড্রোনে ৩৩ হাজারের বেশি এআই গাইডেন্স কিট দিয়েছে। আর রাশিয়াও পিছিয়ে নেই—তাদের ভিটুইউ স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র নিজেই লক্ষ্য খুঁজে নেয়। ব্যবসায়িক মিডিয়াও সতর্ক করছে: বিজনেস ইনসাইডার লিখেছে, শাহেদ ড্রোনের পরবর্তী প্রজন্মেই এআই নিজের লক্ষ্য নিজে বেছে নেবে। দুই পক্ষই বুঝে গেছে—যে পক্ষ দ্রুত শিখতে পারে, সেই পক্ষ জেতে।
এখানে উঠে আসছে আরেক ধারণা— ‘এজ এআই’। ড্রোনের ভেতরেই চলে ছোট্ট এআই চিপ, যা ইন্টারনেট বা রিমোটের সংযোগ ছাড়াই নিজে নিজে লক্ষ্য চিনে নেয়। জ্যামিং যত শক্তিশালীই হোক, সংযোগবিহীন এই ড্রোনকে থামানো যায় না। ইউক্রেনের ড্রোন বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী স্পষ্ট— অদূরেই ড্রোন নিজে সিদ্ধান্ত নেবে, মানুষ কেবল অনুমোদন করবে। সেই দিনটি হয়তো যতটা ভাবা হয়, তার চেয়ে কাছে। এই শিক্ষা ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। আগস্টে ন্যাটো ঘোষণা করেছে, তারা ইউক্রেনে যুদ্ধ-পরীক্ষিত এআই ড্রোন বহর পূর্ব ইউরোপে মোতায়েন করবে। আর আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষণ সোজা কথায় বলে দিচ্ছে— ইউক্রেনের পরবর্তী যুদ্ধ হবে ‘কম্পিউট শক্তির যুদ্ধ’—যার কাছে বেশি চিপ ও দ্রুত এআই, তার হাতে বেশি সুবিধা।
ইরান: যে কক্ষে চ্যাটবট বোমার লক্ষ্য ঠিক করে
ইউক্রেন যদি হয় ‘শেখার’ যুদ্ধ, ইরান হলো ‘সিদ্ধান্তের’ যুদ্ধ। প্রক্রিয়াটা এখন ভয়ংকর রকমের সরল। স্যাটেলাইট ছবি তোলা হয়, এআই তা বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বানায়, কমান্ডার স্বাক্ষর করেন, তারপর বোমা পড়ে। ফারাকটা শুধু গতিতে—যে কাজে আগে সপ্তাহ লাগত, এখন লাগে ঘণ্টা।
এ বছর মার্চের শুরুতে জানা যায়, মার্কিন অভিযানে অ্যানথ্রপিকের ক্লড ব্যবহৃত হয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই। প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ক্লড এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তু বেছে নিয়েছে; পুরো অভিযানে মাত্র ৯৬ ঘণ্টায় দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও সাজানো হয়— যে কাজ শেষ করতে মানব বিশ্লেষকদের লাগত সপ্তাহ, কখনও মাস। পাশে ছিল ইলন মাস্কের গ্রক, যা যুদ্ধ সিমুলেশন ও হামলার পরিকল্পনা করেছে, আর প্যালান্টিরের ম্যাভেন—স্যাটেলাইট ছবি, সিগন্যাল গোয়েন্দাগিরি আর এআই বিশ্লেষণ এক জায়গায় জুড়ে দিয়ে ‘কিল-চেইন’কে সপ্তাহ থেকে ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছে। পরে পেন্টাগন ম্যাভেনকে নিজেদের মূল সামরিক ব্যবস্থা হিসেবেও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
বিতর্ক থামেনি। মার্কিন আইনপ্রণেতারা তদারকির দাবি তুলেছেন, আর ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক নিজেই পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে একটি নীতি বহুদিন ধরে স্বীকৃত: ‘অর্থপূর্ণ মানব নিয়ন্ত্রণ’ অর্থাৎ প্রাণঘাতী সিদ্ধান্তের আগে একজন মানুষকে অবশ্যই বুঝে-শুনে প্রতিটি পদক্ষেপ পরখ করতে হবে। ২০২৬ সালের যুদ্ধে এই নীতিই প্রথমবারের মতো পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যে মডেল একসময় কবিতা লিখত, তা-ই এখন ‘ওয়ার রুমের চ্যাটবট’—বোমার লক্ষ্য ছাঁটাই করে। অথচ আসল সত্যটা অটুট। প্রযুক্তি যত দ্রুতই হোক, যুদ্ধে মানুষের বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন কমেনি। ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলার দায় তখন চাপানো হলো এআইয়ের ঘাড়ে কিন্তু সত্যটা আরও ভয়ংকর, অনুমোদন দিয়েছিল মানুষই। আর এআই-সহায়তায় হামলায় প্রথম বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনাও এরই মধ্যে নথিভুক্ত হয়ে গেছে।
ইরানের সবচেয়ে কৌশলী—আর কম আলোচিত—পদক্ষেপ ছিল এআই ডেটা সেন্টারে আঘাত। যুক্তরাষ্ট্র যখন গোয়েন্দা থেকে টার্গেটিং পর্যন্ত সবটাই ক্লাউড-ভিত্তিক এআইয়ের ওপর চালাত, ইরান বলছে—সেই এআই যেখানে চলে, সেই ডেটা সেন্টারগুলোই বৈধ সামরিক লক্ষ্য। এই যুক্তিতে থেমে গেল সিলিকন ভ্যালির সেই প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা নিজেদের সবসময় নিরপেক্ষ ‘টেকনোলজি ফার্ম’ বলে পরিচয় দিয়ে এসেছিল।
আরও একটি কথা পরিষ্কার— এ যুদ্ধে জয়ী সস্তা-স্মার্ট। এআই-নির্দেশিত কোটি ডলারের প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে চাইপে যেতে পারে, সস্তা ড্রোনের ঝাঁকে থিতু দিতে পারে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা। এআই চিপ এখন যুদ্ধের ‘নতুন তেল’—শক্তির নতুন মুদ্রা। এই যুদ্ধে যেমন যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সামরিক সহযোগিতার বিনিময়ে এআই-চিপের বর্ধিত প্রবেশাধিকার দিয়েছে, সেটা নতুন ভূরাজনীতিরই নিদর্শন।
যে যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ আর লুকাতে পারে না
২০২৬ সালের আরেকটি শিক্ষা—প্রাইভেসি বা গোপনীয়তার মৃত্যু। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এখন এত সস্তা ও সহজলভ্য যে কোনো সেনাবাহিনীই আর আড়ালে থাকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র যখন প্ল্যানেট ল্যাবসের মাধ্যমে ইরানের ছবি বন্ধ করে দিল, চীন ঠিক তখনই সেই শূন্যস্থান পূরণ করল—ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির ছবি সরবরাহ করে। আর চীনের ওয়াইএলসি-বিএইট রাডার, এআই-চালিত সংকেত প্রক্রিয়াকরণে, স্টিলথ বিমানকেও চোখে আনে। অর্থাৎ শত কোটি ডলারের অদৃশ্যতার প্রযুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে তুলনামূলক সস্তা অ্যালগরিদম।
যুদ্ধটা ছড়িয়ে পড়েছে চোখের অদৃশ্য বর্ণালিতেও। ইরান নিজের আকাশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জ্যাম করেছে—একে বিশ্লেষকরা বলেছেন অভূতপূর্ব ইলেকট্রনিক যুদ্ধ। আর জিপিএস ছেড়ে ইরান বেছে নিয়েছে চীনের বাইডু নেভিগেশন। অর্থাৎ নেভিগেশন, যোগাযোগ, আর নজরদারি— তিনটিই এখন নিজেরাই যুদ্ধক্ষেত্র। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এর নাম দিয়েছে ‘মিউচুয়ালি অটোমেটেড ডেস্ট্রাকশন’—পরস্পরের দিকে ধাবমান স্বয়ংক্রিয় ধ্বংস। যুদ্ধের জিনিসপত্রও বদলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই যুদ্ধে সাহায্যের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পেয়েছে অগ্রসর এআই চিপ। চিপ এখন নতুন তেল।
চীনের চোখে এই যুদ্ধ ছিল আরেকটি পরীক্ষাগার। ব্লুমসবারি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানকে স্যাটেলাইট, রাডার আর এআই প্রযুক্তি দিয়ে বেইজিং দেখে নিচ্ছে তার ব্যবস্থা মার্কিন যন্ত্রের বিরুদ্ধে কেমন কাজ করে। যুদ্ধের ময়দান এখন ভবিষ্যতের পরাশক্তি-সংঘাতের মহড়ার জায়গা।
বাংলাদেশ: দর্শক হয়েও নিরাপদ নই
এত দূরের যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী? সরাসরি কোনোটা নয়, কিন্তু পরোক্ষ সবকিছুই। প্রথমত, আমাদের রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতার ওপর—আর যেকোনো বড় যুদ্ধ সেই শৃঙ্খলই কাঁপায়। দ্বিতীয়ত, চিপ ও এআই এখন কৌশলগত সম্পদ; যে দেশের কাছে সেমিকন্ডাক্টর নেই, সে দেশ যুদ্ধের নতুন অর্থনীতিতে দরকষাকষির শক্তিও হারায়। আর তৃতীয়ত, আমরা নিজেরাই ডেটা সেন্টার আর এআই অবকাঠামো গড়তে চাইছি — এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, এআই অবকাঠামো নিজেই যুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যসার্বভৌমত্ব আর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো— এ তিনটি এখন আমাদের জন্যও জাতীয় অগ্রাধিকার, বিলাসিতা নয়।
আর একটি বিষয়, নিয়ম। সামরিক এআই নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি এখনো কার্যত নেই; হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বহু সংস্থা এরই মধ্যে চুক্তির দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে এখনই এই আলোচনায় নিজের কণ্ঠ তুলতে হব—নইলে নিয়ম লেখা হবে শক্তিধরদের হাতে, আর আমরা হব কেবল তার অনুগামী।
দায় কে নেবে?
প্রশ্নটা আজকের সবচেয়ে কঠিন। আল জাজিরা জুলাইয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছে—এআই কি যুদ্ধে নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে? উত্তর আজও ‘না’। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র সে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে না। মানুষ যখন লক্ষ্যবস্তুর তালিকা শুধু ‘অনুমোদন’ করে—পরখ না করে। তখন সে তালিকার নৈতিক দায় আসলে মেশিনের ওপরই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আর মেশিনের কোনো বিবেক নেই।
যুদ্ধের ইতিহাসে প্রতিটি অস্ত্রই দাবি করেছিল—‘এই অস্ত্রই শেষ অস্ত্র’। এআই সেই দাবি করেনি; বরং সে নীরবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তগুলো নিজের হাতে নিয়ে নিচ্ছে। আর সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো— এই রূপান্তর ঘটছে এত দ্রুত যে নিয়ম, নৈতিকতা আর আইন কোনোটিই তার সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। যেদিন ট্রিগারও আর মানুষ টিপবে না, সেদিন আর ফেরার পথ থাকবে না। ইউক্রেন আর ইরানের আকাশ আজ আমাদের সেদিনটারই পূর্বাভাস দিচ্ছে।
নতুন জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতায় বাংলাদেশের যা শিক্ষণীয়
বর্তমান বিশ্বের এই পরিবর্তিত বাস্তবতা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে। যখন এআই ডেটা সেন্টারগুলো ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠছে, স্টিলথ বনাম এআই-রাডারের লড়াই আমাদের বহুদিনের সামরিক হিসাব-নিকাশ বদলে দিচ্ছে এবং সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন মুদ্রা— তখন শুধু বাইরে থেকে অস্ত্র সরবরাহ করলেই শক্তিশালী হওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে এই যুগে সেই দেশই এগিয়ে যাবে, যে দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং সঠিক নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের গড়ে তুলবে। আমাদের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স মডেল দিয়ে সভরেন বা সার্বভৌম সিস্টেম তৈরি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং নতুন জাতীয় এআই নীতিমালার সঠিক মেলবন্ধন আমাদেরকে এই খাতে এক অভাবনীয় সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে পারে।
যুদ্ধের চেহারা আজ পুরোপুরি বদলে গেছে। যে যুদ্ধে একটি এআই অ্যালগরিদম ঠিক করে দেয় কাকে ধ্বংস করতে হবে, সেখানে মানুষের নৈতিকতা, বিচারবোধ আর আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে এর ভারসাম্য রক্ষা করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি, রাজনীতি আর নাগরিক স্বাধীনতার এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন আমাদের সবার সামনে। যে দেশ এই নতুন যুগের ভাষা বুঝবে এবং এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে, ভবিষ্যতের সাফল্য কেবল তাদেরই। আর সেই প্রস্তুতির সময় এখনই।
লেখক: তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও এন্টারপ্রাইজ এআই পরামর্শক।
ই–মেইল: hello@sadiqalam.com