ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে পাহাড়সম চাপে পড়েছে বাংলাদেশ দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান এই টেস্টে পরাজয়ের শঙ্কা মাথায় নিয়ে দিনের খেলার শেষে মাঠ ছাড়লেও, ক্রিকেট ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় এত কম রানে অলআউট হয়েও ম্যাচ জয়ের অসম্ভবকে সম্ভব করার অবিশ্বাস্য কিছু নজির রয়েছে। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে এখন সেই বিরল রেকর্ডে নাম লেখানোর হাতছানি।
টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরেরও বেশি বর্ণাঢ্য ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে ৭০ রানের নিচে অলআউট হয়ে ম্যাচ জেতার নজির রয়েছে মাত্র দুটি। যার প্রথমটি গড়েছিল ইংল্যান্ড। ১৮৮৭ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৩ রানে ম্যাচ জিতেছিল ইংলিশরা। এর পাঁচ বছর আগে, ১৮৮২ সালে ওভালে বিখ্যাত অ্যাশেজ সিরিজে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৩ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরে দুর্দান্ত বোলিং ও লড়াকু মানসিকতায় ইংল্যান্ডকে অল্পতেই আটকে দিয়ে ৭ রানে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল অজিরা। সেই ঐতিহাসিক টেস্ট হার থেকেই জন্ম নিয়েছিল ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই ‘অ্যাশেজ’ ট্রফি।
যদিও এই দুই জয়ের নজির সেই ১৯-এর শতকে। এমনকি চলতি একবিংশ শতাব্দীতে প্রথম ইনিংসে একশ’র নিচে অলআউট হয়ে ম্যাচ জেতার নজির কেবল দুবার। ২০১৯ সালে লর্ডসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ রানে অলআউট হয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১৪৩ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। আর ২০১২ সালে দুবাই টেস্টে ৯৯ রানে অলআউট হবার পর সেই ইংল্যান্ডকেই ৭১ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তান।
ম্যাকাই টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় স্বল্প রানেই অলআউট হবার পর হওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। দিনের বাকি সময়ের খেলা শেষে ১০১ রানের লিড পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যদিও এই ইনিংসে তাদের হাতে উইকেট আছে কেবল দুটি। এখন দেখার বিষয়, বোলারদের নৈপুণ্য এবং পরবর্তীতে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল লড়াইয়ে শান্ত-শরীফুলরা কি পেরে উঠবে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে?