শিশু হত্যা মামলার ২ মাসের মাথায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী রায়কে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলার ২ দুই মাস ৮ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

মামলার প্রধান আসামি বিধানচন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই মামলায় অপরাধে সহায়তার দায়ে বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও তার মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রবিবার (২৩আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধানচন্দ্র রায় (২২) উপজেলার ফলিমানি গ্রামের রনজিত কুমার রায়ের ছেলে।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, ​গত ১৫ জুন ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের শিশুকন্যা নন্দিনী নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার বিধানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং পুলিশের দ্রুততম সময়ে দাখিল করা চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ১৬ আগস্ট বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযোগ গঠন, ১৭ থেকে ১৯ আগস্ট সাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ, ২০ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুনানি ও ২৩ আগস্ট চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়। মাত্র দুই মাস ৮ দিনের মাথায় বিচার কাজ সম্পন্ন হলো।

আদালতের নথিপত্র ও তদন্ত তথ্যানুযায়ী, কোনো বড় ধরনের পূর্বশত্রুতা নয় বরং সামান্য কানের দুল চুরি এবং প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যকার তুচ্ছ পারিবারিক কলহের বলি হতে হয়েছে সাত বছরের অবুঝ শিশু নন্দিনীকে। হত্যার পর মরদেহ গুম করতে সহায়তার কারণে বিধানের পাশাপাশি তার বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও মা মমতা রানীকেও কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আওতায় আনা হয়েছে।

নন্দিনীর বাবা নলিলিকান্ত বলেন আমার অবুঝ মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তার বিচার এত দ্রুত পাব ভাবিনি। বিচারক যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা শান্তি পেয়েছি। এখন আমাদের একটিই চাওয়া উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া শেষ করে এই মৃত্যুদণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান রিপন জানান, দ্রুত বিচারের নামে আসামিরা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি-না তা পর্যালোচনার জন্য তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।