অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তিন ধাপের কৌশল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

গভীর সংকট থেকে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনে তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর আওতায় এই তিন ধাপ হলো—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনঃস্থাপন) এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন (দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন)।

বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপদেষ্টা জানান, এই তিন ধাপ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করা হবে। প্রথম ধাপ 'রিকভারি'র মূল লক্ষ্য জমে থাকা সংকট মোকাবিলা, তারল্যসংকট দূরীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। সরকারের রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয় ১২ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছর ছিল মাত্র ২ শতাংশ। করের আওতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সুদের হার কমে আসাকে তিনি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুবাতাস হিসেবে আখ্যা দেন।

দ্বিতীয় পর্যায় ‘রেস্টোরেশন’-এর মূল উদ্দেশ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবিত করা। এর আওতায় ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে 'ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক' পদ্ধতি চালু এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়া থেকে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ঋণনির্ভর প্রকল্প পরিহার করে কৃষি, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তৃতীয় ধাপ ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’-এ অর্জিত সাফল্য টেকসই করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কেবল গ্রাহক নয়, বরং শক্তিসম্পদ উৎপাদক হিসেবে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিয়ে কৌশলগত নীতির মাধ্যমে বর্তমান দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। সরকারের প্রথম ১৮০ দিন ছিল সংকট ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক পদচিহ্ন। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ধারায় পৌঁছে দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ এই তিন ধাপের কাঠামো মূলত হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার, অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার একটি রূপরেখা।