ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের এক মাদরাসার ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় ২ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯), এবং একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাদরাসার ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর দাখিল মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকালে ওই যুবকের সাথে দেখা করতে গোয়ালন্দ ঘাটে যায় মেয়েটি। এ সময় মেয়েটি ছেলেটিকে না পেয়ে তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে। পরে তার ভাই মেয়েটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা মেয়েটির ভাইকে ফোন করে তাদের বাড়িতে আসতে বলে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় আসামিদের ভাড়াটিয়ার বাড়িতে আসেন। সেখানেই মেয়েটিকে নিয়ে আসামিরা রাত্রি যাপন করেন।
পরের দিন সকালে আসামি সুমন মোল্লা ঘরে প্রবেশ করিয়া তাহার ছবি মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলিয়া হুমকি প্রদান করে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে অপর আসামি ওসমান বেপারীও তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর আসামিরা মেয়েটি এবং তার চাচাতো ভাইকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি প্রদান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারে কাছে সবকিছু খুলে বলে। এরপর মেয়েটির মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ রবিবার এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।