ফেডারেশন কর্তাদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, 'চাই না আপনারা কোচ হয়ে বিদেশ সফরে যান'

‎আন্তর্জাতিক আসরে শুধু অংশগ্রহণ নয়, আগামীতে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিতে চায় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সভাকক্ষে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় প্রায় ২০ থেকে ২২ টি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন।

সভায় ফেডারেশনগুলোর পক্ষ থেকে নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে অনুশীলনের জায়গার সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন কয়েকটি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। উশু ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু জানান, খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক পারভেজ হাসান বলেন, ‘অনুশীলনের নির্দিষ্ট ভেন্যু নেই আমাদের। ফলে খেলোয়াড়দের প্রায় ৩০০ ফুট পর্যন্ত অনুশীলন করতে হয় এবং অনেক সময় আনসার বা সামরিক বাহিনীর স্থাপনায় গিয়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হয়।’

‎ফেডারেশনগুলোর এসব সমস্যার কথা শুনে প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ভেন্যুর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অনুশীলনের জন্য সম্ভাব্য সব জায়গা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কমলাপুরের একটি ভেন্যু ফেডারেশনগুলোকে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সভায় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়
‎ফেডারেশন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টি সভায়ও উঠে আসে। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের যাঁরা ফেডারেশনের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক আছেন, হয়তো-বা আপনারা সাবেক ক্রীড়াবিদ। কিন্তু আমি কখনোই চাই না, আপনারা কোনো ক্রীড়াবিদ কিংবা কোচ হয়ে দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে যান।

‎একটি দলের সঙ্গে সারা বছর যে কোচ থাকবেন এবং নিয়মিত অনুশীলন করাবেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁকেই পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা বলে, সারা বছর একজন কোচ অনুশীলন করিয়েছেন, আর যখন কোনো গেমস আসে বা বাইরে যাওয়ার সফর আসে, তখন সেই কোচকে বাদ দিয়ে কোনো কর্মকর্তা কোচ হয়ে চলে যান। আমরা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই দেখতে চাই না।’

‎তিনি বলেন, ‘আগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই মূল লক্ষ্য ছিল। এখন সেই মানসিকতা পরিবর্তন করে পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সঠিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

‎ফেডারেশনগুলো চাইলে বিদেশি কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ফেডারেশনের প্রয়োজন হলে বিদেশি কোচের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‎সাফ গেমস ও এসএ গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। কোনো ফেডারেশন সাফ গেমসের আগে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

‎মতবিনিময় সভায় ফেডারেশনগুলোর নতুন নেতৃত্ব নিজেদের সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।