‘বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষক চান শিক্ষার্থীরা

মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু নতুন ভর্তিই যথেষ্ট নয়। বর্তমানে যারা অধ্যয়নরত, তাদের ভবিষ্যৎও নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তারা ১৩ দফা তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত ডিসিইউর জন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে; ডিসিইউর আওতায় ইতিমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গণস্বাক্ষরের যে ফল ইতিমধ্যে সামনে এসেছে তা প্রজ্ঞাপন আকারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেস দিতে হবে; বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করতে হবে। অনতি বিলম্বে প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ করতে হবে।

এ ছাড়া ঢাকার বাইরের ও আবাসনহীন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে; গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করতে হবে; বাস্তবসম্মত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে; ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করতে হবে।  ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করতে হবে। সাতটি ক্যাম্পাসের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীর উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণ করতে হবে।