জামালপুর পৌর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে ইশরাত জাহান মিমি (৩৩) নামের এক অসহায় মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষ থেকে মিমির দুটি অবুঝ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পিপাসার্ত শিশুদের জানালা দিয়ে পানি চাওয়ার হৃদয়বিদারক আকুতি থেকেই শেষ পর্যন্ত সামনে আসে এই নির্মম মৃত্যুর ঘটনা। তবে ঘটনার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন কাউসার আহাম্মেদ নামে এক ব্যক্তি।
গতকাল রবিবার সকালে শেখের ভিটা এলাকার বাবলু মিয়ার ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ এই মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত ইশরাত জাহান মিমি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার সরকারদি এলাকার ইব্রাহীম হোসেনের মেয়ে। তিনি একই উপজেলার ঘাটিয়াডাংগা এলাকার মৃত শাওনের স্ত্রী। মাত্র এক বছর আগে স্বামী শাওনকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছিলেন মিমি। এরপর সন্তানদের বুক আগলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জামালপুরের এই ফ্ল্যাটটিতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন তিনি। তাদের সংসারে রয়েছে সামিয়া আফরিন স্নেহা (৮) নামের এক মেয়ে এবং মমিন শাহরিয়ার (৫) নামের এক ছোট ছেলে। অবুঝ এই দুটি শিশুই ঘরে আটকে ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর কাউসার আহাম্মেদ নামের ওই ব্যক্তি যখন পলাতক, তখন তৃষ্ণার্ত শিশুরা জানালা দিয়ে বাইরে থাকা মানুষের কাছে পানি চেয়ে আকুতি জানাতে থাকে। শিশুদের এই কান্না ও আকুতি দেখেই প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয় এবং পরে পুলিশ এসে দরজা খুলে ঘরের ভেতর মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে ইসরাত জাহান মিমির স্বামী শাওন মিয়া মারা যান। এক মাস আগে কাউসার আহাম্মেদ নামের একজনের পরিচয়ে ইসরাত জাহান মিমি জামালপুর পৌর শহরের পাঁচ রাস্তা রেলক্রসিং সংলগ্ন শেখের ভিটা এলাকায় বাবলু মিয়ার বহুতল ভবনের ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউসার আহাম্মেদের পরিচয় জানা যায়নি। সকাল থেকে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু বারবার পানি চাইতে থাকে। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে ওই ভবনের মালিক পক্ষের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে মালিক পক্ষের লোকজন ফ্ল্যাটের মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো দেখতে পায়। এক পর্যায়ে তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষে এক নারীর নিথর দেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।