দূতাবাসে ই-মেইলে চাঁদা দাবি হুমকি ‘ভুয়া গ্রুপের কাজ’

ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনাকে ‘ভুয়া গ্রুপের কাজ’ বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ এবং সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম।

বিভিন্ন দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা চেয়ে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই গ্রুপ কাজ করছে। এটি একটি ভুয়া গ্রুপ। ই-মেইলে যেসব বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছে, তার সূত্র ধরে তিন-চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা কিছুই বলতে পারেনি। এ ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণাও নেই। তিন-চারটি দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারি কয়েকটি দপ্তরেও চাঁদা চেয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এটি নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ধারণা, এটি পূর্বশত্রুতা বা দেশের ভাবমূর্তি (ইমেজ) নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে। সরকারকে বিব্রত করার জন্যও এটি করা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। যেকোনো ঘটনা ঘটলেই সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। আমরা আশাবাদী, দ্রুতই এ রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে স্ক্রিপ্টেড ই-মেইলের মাধ্যমে কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছে। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে। সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সিটিটিসির সঙ্গে দূতাবাসের কথা হয়েছে। একাধিক দূতাবাসের ই-মেইলে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তদন্ত চলছে। তা ছাড়া মনে হচ্ছে, এসব ই-মেইল স্ক্যাম।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে একই ধরনের ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বারিধারায় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা। তারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার কথা জানান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দূতাবাস এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করেনি।

এদিকে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে একসময় বাংলাদেশে আলোচিত ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কার্যক্রমও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নব্য জেএমবির একটি চক্রের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুন তথ্য পেয়েছে। গত ১২ আগস্ট সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তিনতলা একটি বাড়িতে সিটিটিসি অভিযান চালিয়ে একটি সন্দেহজনক প্রেশার কুকার বা ‘কেটলি বোমা’ ও বিপুল গানপাউডারসহ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানের সামনে ফেলে যাওয়া একটি ভ্রমণ ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ জুলাই ঢাকার মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়।