দুই কক্ষেই চলছে ছয় শ্রেণির পাঠদান!

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৭ জন। বিপরীতে শ্রেণিকক্ষ মাত্র দুটি। ফলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েও দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন রয়েছে।

বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিনের। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য পাওয়া ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট × ৯ ফুট আয়তনের একটি টিনশেড কক্ষ নির্মাণ করা হয়। তবে গরমের সময় টিনের তৈরি ওই কক্ষে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শ্রেণিকক্ষ সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি, বরং গরমের মৌসুমে পাঠদান নিয়ে নতুন করে দুর্ভোগ তৈরি হয়।

জায়গার অভাবে বিদ্যালয়ে দুই শিফটে পাঠদান চলে। প্রথম শিফট সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান, পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং গরমের মধ্যে টিনশেড কক্ষে ক্লাস করার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফনিন্দ্র দাস বলেন, তিনি ছাড়াও বিদ্যালয়ে দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সীমিত শ্রেণিকক্ষের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য স্বাভাবিক ও আরামদায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ কম। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে টিনশেড কক্ষে শিশুদের ক্লাস করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শ্রেণির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে নতুন পাকা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান অবকাঠামো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ালেই হবে না। শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি।