সৌদি আরবের যুবরাজ ও দেশটির শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানকে দুই দিনের সফরে প্যারিসে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। রবিবার শুরু হওয়া এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জ্বালানি ও ইরান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। খবর ফ্রান্স ২৪।
সফরের প্রথম দিন তুলনামূলকভাবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে কাটান দুই নেতা। প্যারিসে আয়োজিত ইস্পোর্টস বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে যুবরাজকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ম্যাক্রোঁ। সেখানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও ছিলেন। ম্যাক্রোঁ বিভিন্ন গেমের শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
কম্পিউটার গেম থেকে দাবা, বিভিন্ন ইস্পোর্টসে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাটি সৌদি আরবের জোরালো সমর্থন পেয়ে আসছে। এবারই প্রথম সৌদি আরবের বাইরে, প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলো ইস্পোর্টস বিশ্বকাপ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার স্বাস্থ্য, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে কয়েকটি চুক্তি সই হতে পারে। পাশাপাশি ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমান আন্তর্জাতিক সম্মেলন ছাড়া খুব কমই সৌদি আরবের বাইরে যান। প্রায় এক বছর পর তার ফ্রান্স সফর দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও গতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
তবে সৌদি যুবরাজের এই সফর নিয়ে ফ্রান্সে সমালোচনাও হয়েছে। রবিবার দেশটির তিনটি সাংবাদিক ইউনিয়ন সৌদি আরবের কার্যত শাসককে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাগত জানানোর প্রতিবাদ করেছে।
এসএনজে-সিজিটি, সিএফডিটি-জার্নালিস্টস এবং এসজেজে-এফও এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় ২০২১ সালে করা অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্রান্সে নির্যাতন ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে।
সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক খাশোগি ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যার শিকার হন। তার মরদেহ টুকরো করে ফেলা হয়েছিল এবং তা আর উদ্ধার করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাশোগিকে হত্যার অভিযানে মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি জড়িত ছিলেন। জাতিসংঘের একটি তদন্তেও তার হত্যাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করা হয়েছিল।
সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো বলেছে, খাশোগি হত্যার পর মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের কাছে ম্যাক্রোঁর এ সফর আয়োজন ‘উসকানিমূলক’ বলে মনে হচ্ছে।
সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকেও ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে রিয়াদ। সোমবার বিকেলে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি-ফরাসি কৌশলগত অংশীদারত্ব কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
এদিকে সৌদি আরব আগামী কয়েক বছরে বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এক্সপো ২০৩০ এবং ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ।