জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কোনো নেতা দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি আর কেউ নন ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি বাকসু’র সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার এই প্রাপ্তিতে দায়িত্ব পাওয়ার দিন অর্থাৎ গত ২০ আগস্ট থেকে দলটির সাবেক এবং বর্তমান তরুণ নেতাকর্মী বিশেষ করে অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের মাঝে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। যার প্রমাণ সোমবার (২৪ আগস্ট) দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে শেরে-ই বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে পাওয়া গেছে।  

ভিডিও থেকে নেওয়া

এই কর্মসূচি উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে সকাল থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা আসতে থাকে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল আলম নিরবও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দুপুর ১২ টার দিকে যখন রুহুল কবির রিজভী, শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তখন পুরো এলাকা একটা সমাবেশে রূপ নেয়।  শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রিয় নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।   

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, 'বিএনপি চেয়ারম্যান আমাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন আমাদের কর্তব্য হবে দলকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশিত যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান আছে, তা যাতে সুসম্পন্ন ও সুসংগঠিত এবং সুন্দরভাবে নিষ্পন্ন করা যায় আমরা সেই চেষ্টা করব।' 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নেতাকর্মীদের বলব, আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিচালকের আসনে বসেছে ও সরকার গঠন করেছে। জনগণের স্বার্থে, তাদের মানবকল্যাণে এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ কাঠামোগত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচি এবং তা বাস্তবায়নে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই পদক্ষেপগুলো সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এবং ক্ষমতাসীন একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হিসেবে সেটা জনগণকেও অবহিত করা হবে। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে তারা সম্পৃক্তও থাকবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে কেউ যদি অনৈতিক চিন্তাও করেন তাহলে কিন্তু তা করতে পারবে না। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, সরকারের যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন।

রিজভী বলেন, জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আজ জনগণের কাছে জনপ্রিয় কেন? কারণ এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া ও তার সহধর্মিণী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, তারা নারীর ক্ষমতায়ন, দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য যে কাজগুলো করেছেন, সেই কাজগুলোই আজ জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। এখন তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিক কাজ এবং তার কিছু কর্মসূচি যেটি জনগণের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করছেন। দলের নেতাকর্মীরা সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব। আমরা সেটিকে জনগণের কাছে তুলে ধরব। এতে জনগণের কাছে আমাদের দলের বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে হয়ত দুই-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের বলব, ৫ আগস্টের পর থেকে দেখেছেন আমাদের চেয়ারম্যান কত শক্ত হাতে যারা দলের নাম ভাঙিয়ে নানা ধরনের অপকর্মে যুক্ত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুতরাং কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না। গঠনমূলক কাজে থাকবেন। দলকে শক্তিশালী করতে হবে এবং দলের নেতাকর্মীরা, যাতে তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে সেই চেষ্টাই তারা করবেন।

এসময় বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আমিনুল হক, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, মাহবুবুর রহমান নান্নু, মুনীর হোসেন, রফিকুল আলম মজনু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল এস এম জাহাঙ্গীর, তানভীর আহমেদ রবিন, ফজলুর রহমান খোকন,সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।