জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদকে কার্যকর রাখতে হলে বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু বিরোধী দল একা দায়িত্বশীল হয়ে পারে না। এ ব্যাপারে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কাম্য।’ এ সময় গণতন্ত্র উত্তরণে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে সম্পাদকদের সহযোগিতা চেয়েছেন জামায়াত আমির।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন দৈনিক যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নয়াদিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তাফা মামুন, ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডেইলি ইভিনিং নিউজ, দৈনিক এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা।
ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ।
সভা শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। দেশের স্থিতিশীলতার রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করব, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব। এই নীতির ওপরই জামায়াত আছে। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সম্পাদকদের অবহিত করেছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। এই বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক। বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক—এসব নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সম্পাদকদের প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়েছে।
সম্পাদকদের পক্ষ থেকে জামায়াতের পার্লামেন্টের পলিসির প্রশংসা করা হয়েছে। দেশকে স্থিতিশীল রেখে বিরোধিতার জায়গায় গঠনমূলক বিরোধিতা করা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করা—এটি তারা প্রথম দেখেছেন। তারা এটির প্রশংসা করেছেন। এর আগে জাতীয় সংসদ ও সংসদের বাইরে বিরোধী দল কী কী কাজ করে দেশকে অস্থিতিশীল করেছে, সম্পাদকরা সেই ইতিহাসও স্মরণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে জামায়াত ব্যতিক্রম বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন, আপনারা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন। জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথেও ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আগের বিরোধী দলের মতো অসহিষ্ণু ও সহিংসতার পথে গিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। এ ব্যাপারে কয়েকজন সম্পাদক জামায়াত আমিরের সহযোগিতা চেয়েছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দল যেভাবে বৈষম্য করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। উন্নয়নকাজের বরাদ্দে, এমনকি পার্লামেন্টের ফ্লোরে আমাদের কথা বলতে ও নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা কীভাবে বিরোধীদলীয় এমপিদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, প্রবাসীদের অধিকার আদায়সহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু এসব বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সরকারি দলের কাছ থেকে সহযোগিতা পাইনি। বরং অনেক জায়গায় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এসব বিষয় বিরোধীদলীয় নেতা তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে লেখনির মাধ্যমে জাতির কাছে সম্পাদকরা সত্য তুলে ধরেন—এমন সহযোগিতাও চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র উত্তরণে দায়িত্বশীল বিরোধী দলকে আপনারা সহযোগিতা করবেন।
‘বিরোধী দলের নেতা গণমাধ্যমের পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন’
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সম্পাদকদের সংগঠন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, কোনো দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর আস্তে আস্তে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। যদিও আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকার তেমন হবে না। তবে যদি কোনো গণমাধ্যমের ওপর সরকারি কোনো অন্যায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে সেটি সেই গণমাধ্যম বিরোধী দলকে সমর্থন করে কি না—তা বিবেচনা না করেই যেন বিরোধী দল তার প্রতিবাদ করে। বিরোধী দলের নেতা এই কাজে পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে তারা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করছেন ও সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। সেই সঙ্গে তারা কিছু বিষয়ে তাদের মনোকষ্টের কথাও জানিয়েছেন। যেমন, তারা বলেছেন, জ্বালানি নিয়ে তারা একটি বিশেষ অধিবেশন করতে চেয়েছিলেন। সরকার এখন পর্যন্ত সেটিতে সাড়া দেয়নি। তারপরও তারা এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে চান এবং সংসদকেই সব কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা করতে চান।
তিনি আরও বলেন, সম্পাদকদের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি, জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। আমরা বলেছি, আমাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। আমরা মূলধারার গণমাধ্যমের যে দায়িত্ব, তা পেশাগতভাবে পালন করব।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি পরামর্শ ছিল। আমি ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরির কথা বলেছিলাম। আমি তাঁদের বলেছি, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের একটা অভ্যাস বা চরিত্র আছে—তারা সব বিষয়ে কথা বলেন। বিরোধী দলের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা হলো, সবাই সব বিষয়ে কথা না বলে যদি ছায়া মন্ত্রিসভা করা যায়, তাহলে যেমন জনগণের জন্য ভালো হয়, তেমনি সরকারও সব সময় একটা চাপের মধ্যে থাকে। আর বিরোধী দলের জন্য এক ধরনের প্রশিক্ষণ হয়ে যায়। কারণ আমরা জানি, বিরোধী দল মানে কী? আগামী নির্বাচনে জনগণ যদি তাদের ভোট দেয়, তারা সরকারে যেতে পারে। ছায়া মন্ত্রিসভা হলে তাদের প্রশিক্ষণও হয়ে যায়।’
‘তিনি এটিকে প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, একটি ছায়া মন্ত্রিসভা তারা ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন। কিন্তু আমাদের জানাননি। সেই ছায়া মন্ত্রিসভার নাকি প্রশিক্ষণ চলছে এবং অল্পদিনের মধ্যেই তিনি আমাদের জানাবেন যে, পুরোপুরি ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরি করবেন।’
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টিও উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, সভায় মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান জানতে চেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি (বিরোধীদলীয় নেতা) বলেছেন, ‘প্রতিবেশী তো প্রতিবেশী। কাজেই একজন প্রতিবেশীর সঙ্গে আরেক প্রতিবেশীর যেমন সম্পর্ক থাকে, তারা সেই সম্পর্কই চান। তার থেকে বেশিও না—যে বাংলাদেশের সবকিছু উজাড় করে দিতে হবে। আবার সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে যেন কোনো শত্রুতাও না থাকে।’
মতবিনিময় সভা শেষে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেই তো সরকার। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা এসেছিলাম। তারা গণমাধ্যম সম্পর্কে খুবই সুন্দর কথা বলেছেন। গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আমরা আমাদের পরামর্শ দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি একটি বিষয়ে তাঁদের অনুরোধ করেছি যে, এ দেশে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী পর্যায় অতিক্রম করে এসেছি। আরেকটি পর্যায় আমরা অতিক্রম করে এসেছি—নির্বাচিত সরকারের আমলে বিরোধী দলের নামে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে সংসদের ভেতরে থাকতে হবে। সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের ধারার মধ্যে থাকতে হবে এবং যাতে ফ্যাসিবাদ ও বিরোধীদলীয় নৈরাজ্য—কোনোটিই ফিরে না আসে, সেই আহ্বান আমরা জানিয়েছি।’
দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, মতবিনিময় সভায় জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা প্রথমে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। সম্পাদকদের পক্ষ থেকে অনেকে কথা বলেছেন। এটি একটি প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে এবং সবাই প্রাণ খুলে কথা বলেছেন—বিরোধী দল কী করছে এবং তাদের কী করা উচিত। অর্থাৎ গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ—পুরোটাই ছিল।
জামায়াত আমির এই সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, সরকারের কার্যক্রম ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বাংলাদেশে এখনো সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আসেনি, বিচারিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও কিছু ব্যর্থতা রয়েছে—সেগুলোর কথা বলেছেন। আর তিনি তাঁর দলের কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আর সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, আমরা এর আগে দেখেছি যে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি দানবে পরিণত হয়েছিল। একটি ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে তারা বিরোধী দলের কোনো পরিসরই রাখেনি, রাজনীতিই করতে দেয়নি।
তেমনি আগে বিরোধী দলও যে খুব দায়িত্বশীল আচরণ করেছে, তা নয়। বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সংসদকে দাঁড়াতেই দেয়নি। তারা কথায় কথায় ওয়াকআউট করেছে, কথায় কথায় হরতাল ডেকেছে। ফলে বাংলাদেশে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের যে আচরণ করার কথা, তা তেমন একটা হয়নি।
সবাই এ বিষয়ে বলেছেন, সংসদ যেন সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়। সংসদ যেন সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সব মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করে। সেটির দিকে প্রত্যেক সম্পাদক একই সুরে কথা বলেছেন।
শফিকুল আলম বলেন, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক জামায়াতে ইসলামীর দল সম্পর্কে বা তাঁদের একজন আইনপ্রণেতার বিষয়ে বলেছেন। কিছুদিন আগে প্রথম আলো বয়কটের কথা বলা হয়েছিল—সেটি নিয়েও কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশে খুব আদর্শ পরিস্থিতি না হলেও এখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ভালো অবস্থায় আছে। এটি নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের সন্তুষ্টি রয়েছে বলে আমি দেখেছি।