স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার সবসময় সঠিক কথা বলতেন। অন্য কে কী ভাবল বা ভাবল না, তা তিনি কখনও বিবেচনা করতেন না। খবর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, ‘তার কাছ থেকে একটি জিনিস আমি নির্দিষ্টভাবে শিক্ষা লাভ করেছি, সেটা আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- যেটা সঠিক, তিনি সবসময় সেই সঠিক কথা বলতেন। অন্য কে কী ভাবল বা ভাবল না, সেটা কিন্তু তিনি কখনও বিবেচনা করেননি। আমিও তার সেই গুণাবলী, তার সেই বিশেষ গুণটি আমি নিজেও অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’
তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সালাম তালুকদারকে মহাসচিব হিসেবে দলে দেখেছি, আমরা জেনেছি তার ব্যক্তিত্ব, তার পাণ্ডিত্য এবং তার উৎকর্ষ। এবং সেখান থেকেই আমরা রাজনীতির পাঠ নিয়েছি।’
ড. মঈন খান বলেন, একজন মহাসচিব সত্যিকার অর্থে যে ভূমিকা পালন করতে পারেন, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার। আমি একবার নয়, একাধিকবার, বিভিন্ন সময়ে দেখেছি সালাম তালুকদার মহাসচিব হিসেবে কীভাবে তার কঠিন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে যেভাবে রাজনীতিতে সামনের দিকে নিয়ে এসেছেন, আমি সেই ঋণ হয়তো শোধ করতে পারব না। কিন্তু যখনই তার কথা মনে হয়, আমি অন্তরে এমন একটি বেদনা অনুভব করি যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
ড. মঈন খান বলেন, আপনাদের স্মরণ আছে, তিনি যখন আমেরিকায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, তখন আমি সেখানে ছিলাম এবং তার সঙ্গে ছিলাম। আমি দেখেছি তার মনোবল এবং তার মানসিক শক্তি। বিশেষ করে তার রাজনীতির যে প্রজ্ঞা, রাজনীতির যে দৃঢ়তা, সেটাও শেখার বিষয়।’
সালাম তালুকদারের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, ‘মহাসচিব যখন তার টেলিফোন তুলে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে বিএনপির যেকোনো নেতা-কর্মীকে টেলিফোনে কথা বলতেন, আমরা গল্পের মতো শুনতাম যে অপর প্রান্ত থেকে যে টেলিফোন ধরত সে তখন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে সম্মান দেখানোর জন্য টেলিফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ত। এই কিংবদন্তির মতো কথা আমরা কিন্তু নিজের কানে শুনেছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে রাজনীতি কোন পর্যায়ে এসেছে, রাজনীতির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক কোন পর্যায়ে এসেছে, সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন।’
ড. মঈন খান বলেন, ‘আজকে এই ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এখানে এসে আমি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে তাকে স্মরণ করছি। শুধু বাংলাদেশের মানুষ, যারা তার সঙ্গে জীবনে একবার পরিচিত হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি তারা কোনোদিন তাকে ভুলতে পারবে না। শুধু সরিষাবাড়ীর মানুষ নয়, শুধু জামালপুরের মানুষ নয়, সারা বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক যে দক্ষতা, রাজনৈতিক যে পাণ্ডিত্য, তার প্রতি চিরদিন তারা শ্রদ্ধাশীল থাকবে।’