‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ

তরুণ প্রজন্মের লেখকেরা বাংলাদেশ-চীন সেতুবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত পুরোনো ও গভীর। আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে লেখালেখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণ প্রজন্মের লেখকেরা দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইয়ের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ও লং লাইফ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. আবু কাওছার স্বপন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন অ্যাবকার সমাজসেবা সম্পাদক জান্নাতুন নাহার।

সহ-আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান। বিজয়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কনক পারভেজ।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ও সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি উন্মুক্ত ছিল। এ সময় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ৫১টি লেখা প্রতিযোগিতায় জমা পড়ে। বিচারকদের যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের পর তিনটি বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

‘চীনের গভর্ন্যান্স ও উন্নয়ন মডেল’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. সৈকত হোসেন, দ্বিতীয় মোহাম্মদ সাইয়েদুল ইসলাম এবং তৃতীয় এ কে এম কানক পারভেজ।

‘চীনে শিক্ষা ও জীবন অভিজ্ঞতা’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ মনসুর আলম, দ্বিতীয় মো. আবু কাওসার এবং তৃতীয় মো. মনজুরুল হাসান।

‘চীনের সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রধান পর্যটন গন্তব্য’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. তালেবুর ইসলাম, দ্বিতীয় আফিফা ইবনাত লামিয়া এবং তৃতীয় মোহাম্মদ শোয়াইব।

তিন সদস্যের একটি বিচারক প্যানেল প্রতিযোগিতায় জমা পড়া লেখাগুলো মূল্যায়ন করেন। প্যানেলের সদস্য ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বশির উদ্দিন খান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ইমশিয়াত।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মিরাজ আহমেদ, প্রফেসর সওদাগার মেজবাহ আলমসহ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের তরুণ লেখকদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করবে।